ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮
কম খাওয়ার পরেও ওজন বাড়ছে? কিন্তু কেন ?

কম খাওয়ার পরেও ওজন বাড়ছে? কিন্তু কেন ?

20Fours Desk | আপডেট : ২১ অক্টোবর, ২০১৮ ০৮:৫৪
কম খাওয়ার পরেও ওজন বাড়ছে? কিন্তু কেন ?

বর্তমানে আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল অতিরিক্ত ওজন। সুস্থ্যভাবে বেঁচে থাকতে হলে অবশ্যই আমাদের ফিট থাকতে হবে। আর এই ফিট থাকার জন্য বা অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য আমরা কতকিছুই না করে থাকি। কতরকমের ব্যায়াম, ডায়েট ইত্যাদি। অনেকেই তো ওজন বাড়ার ভয়ে খাওয়া-দাওয়া একদম ছেড়েই দেন।কিন্তু তারপরেও ওজন বৃদ্ধি পেতে থাকে। এখন প্রশ্ন হলো কম খাওয়ার পরেও কিভাবে আমাদের ওজন বৃদ্ধি পায়? এটা কি করে সম্ভব? আসলে এমন আমাদের প্রাত্যাহিক জীবনে এমন কিছু ব্যাপার আছে যেকারনে কম খাওয়ার পরেও আমাদের ওজন না কমে বেড়ে যায়। আসুন তবে জেনে নিই কেন কম খাওয়ার পরেও ওজন বাড়ে? কম খাওয়ার পরেও ওজন বাড়ার কারণঃ

১। স্ট্রেসঃ

অনেক ক্ষেত্রে ওজন বৃদ্ধির অন্যতম একটি কারণ হলো স্ট্রেস বা মানসিক অবসাদ। অনেকেই হয়তো শুনে অবাক হচ্ছেন বা ভাবছেন স্ট্রেসের সাথে ওজন বৃদ্ধির কারণ কি?আসলে অতিরিক্ত স্ট্রেসের ফলে আমাদের  মানব দেহে বিভিন্ন ধরনের স্ট্রেস হরমোন যেমন, এড্রেনালিন, কর্টিসল ইত্যাদি অনেক বেশি নিঃসরিত হইয়ে থাকে। আর এসকল হরমোনের প্রভাবে আমাদের খাবারের চাহিদা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়। এছাড়াও এর ফলে আমাদের মেটাবোলিসমে অনেক পরিবর্তন আসে।একই সাথে এসব হরমোন নিঃসরণের ফলে আমাদের পেশী বর্ধক হরমোন টেস্টোস্টেরনের নি:সরণ কমে। আর এর ফলে আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অংশে চর্বি জমার পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। আর এর ফলেই কম খাওয়া স্বত্বেও আমাদের ওজন বৃদ্ধি পেতে থাকে।

২। কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবারের অভ্যাসঃ

দেখা গেছে আমরা খাবার কম খাচ্ছি কিন্তু জাঙ্কফুড ঠিকই খেয়ে যাচ্ছি। আর ওজন বৃদ্ধির জন্য এটিও অন্যতম একটি কারণ।যেমন বার্গার, স্যান্ডউইচ, ফ্রেঞ্চফ্রাই ইত্যাদি। এসব জাঙ্কফুডে প্রচুর ফ্যাট  থাকে।যা আমাদের ওজন বৃদ্ধি করে থাকে।আবার কম খেলেও খাদ্যতালিকায় কার্বোহাইড্রেড যুক্ত খাবার থাকে এবং এসব খাওয়ার ফলেও আমাদের ওজন বৃদ্ধি পায়। যেমন ফ্রাইড রাইস, সাদা আটার রুটি, কেক, সফট ড্রিংকস, দুধ চা-কফি, আলু কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার।এসব খাবার আমাদের ওজন বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ভুমিকা রাখে। এসব কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার আমাদের  দেহের পুষ্টি চাহিদা মেটানোর পর  চর্বিতে পরিণত হয়। তাই আমাদের খাবার খাওয়ার সময় তা পুষ্টিমান সম্পর্কে জানতে হবে এবং যেসব খাবার শরীরে চর্বি জমায় তা এড়িয়ে চলতে হবে।

৩। অপর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রমঃ

ওজন কমানো বা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সবচেয়ে কার্যকরী হলো শারীরিক পরিশ্রম। আপনি অনেক কম খাবার খেয়ে থাকলেও যদি শারীরিক পরিশ্রম না করেন তাহলে আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে তো আসবেই না বরং বেড়ে যেতে পারে।আসলে আমরা যখন শারীরিক পরিশ্রম করি তখন আমাদের শরীরের ভেতরে জমে থাকা চর্বি বার্ন হতে শুরু করে ।আর এতে আমাদের ওজন কমে আসে বা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এজন্য ওজন কমানো বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে সঠিক ডায়েটের পাশাপাশি শরীরিক পরিশ্রম অপরিহার্য। এজন্য আপনি বেশি করে হাঁটার অভ্যাস, সিঁড়ির বদলে লিফট ব্যবহার, প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম, বাসায় ছোট-খাট কাজ নিজে করা, একটানা বসে না থাকার অভ্যাস গুলো রপ্ত করতে পারেন। এতেই আপনার ওজন একদম নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

৪। বয়সজনিত কারণেঃ

কম খাওয়ার পরেও অনেক সময় বয়সজনিত কারণে আমাদের ওজন বাড়তে থাকে। আর এটা হয়তো অনেকের কাছেই অজানা। আসলে একটা নির্দিষ্ট বয়েসের পর আমাদের দেহে পেশীর পরিমাণ কমে যেতে থাকে এবং চর্বির পরিমাণ বাড়তে থাকে।আর পেশী কমে যাওয়ার ফলে আমাদের গ্রহনকৃত ক্যালোরি বা খাবারের শক্তি শরীরে কম ব্যবহৃত হয়। ফলে এসব অব্যবহৃত ক্যালরি চঋব হিসেবে জমতে থাকে। আর এটাই মূলত আমাদের ওজন বাড়িয়ে থাকে।এছাড়াও আমাদের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে শারীরিক পরিশ্রম করার ক্ষমতা কমে আসে এবং আমাদের মেটাবোলিক এক্টিভিটি ও হরমোনের সাম্যাবস্থা পরিবর্তিত হয়। আর এসব পরিবর্তন সুরু হতে থাকে চল্লিশ বছর পর থেকে।বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে মেনোপজের সময় থেকে ওজন বাড়তে শুরু করে। তাই এসময় অনেক কম খাবার খাওয়ার পরেও আমাদের ওজন বৃদ্ধি পেতে থাকে। এজন্য প্রয়োজন সঠিক শারীরিক পরিশ্রম।

৫। অপর্যাপ্ত ঘুমঃ

ঘুম আমাদের শরীরের জন্য ভীষণ দরকার। এর প্রভাবে শরীরে নানা পরিবর্তন হতে পারে। আমাদের মাঝেই অনেক আছেন যারা অতিরিক্ত ওজনের ভয়ে খাওয়া প্রায়ই ছেড়েই দিয়েছেন। কিন্তু এর পরেও ওজন কমছে না, বরং দিন দিন আরও ওজন বেরে যাচ্ছে। এর অন্যতম একটি কারন হলো অপর্যাপ্ত ঘুম।পর্যাপ্ত ঘুম না হলেও আমাদের ওজন বৃদ্ধি পায়। আসলে পর্যপ্ত ঘুম না আমাদের শরীরে বিশেষ কিছু হরমোনের নিঃসরণ বেশি মাত্রায় হয়ে থাকে।আর এর ফলে আমাদের অজন বৃদ্ধি পেতে থাকে। এসব হরমোনের প্রভাবে মানব দেহে খাবারের চাহিদা বৃদ্ধি করে এবং ক্যালোরিক্ষয় কমিয়ে দেয়। যার ফলে ওজন বৃদ্ধি পায়।

উপরে