ঢাকা, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
কুষ্টিয়ার মফিজ লেক

ঘুরে আসুন কুষ্টিয়ার মফিজ লেক

20Fours Desk | আপডেট : ৩১ জুলাই, ২০১৯ ০০:১১
ঘুরে আসুন কুষ্টিয়ার মফিজ লেক

বাংলার সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত লালনের শহর কুষ্টিয়া। শহর ছাড়িয়ে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক ধরে মাত্র ২৪ কিলোমিটার দক্ষিণে গেলেই আপনাকে স্বাগত জানাবে স্বাধীন বাংলার প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়- শান্তিডাঙ্গা দুলালপুরের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।আর এই বিশ্ববিদ্যালয় এর  ক্যাম্পাসের একেবারে পশ্চিমে অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশে রয়েছে একটি লেক, যার নাম মফিজ লেক। এই লেকের নাম মফিজ কিভাবে হয়েছে সঠিকভাবে তা জানা যায়নি। তবে অনেকের মুখে মুখে প্রচলিত আছে মফিজ নামের এক ব্যক্তি তার প্রেমিকাকে নিয়ে প্রতিনিয়ত এই লেকের ধারে এসে আড্ডা দিত, জীবন সাথী হয়ে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখত। কিন্তু একদিন তার প্রেমিকা তাকে ছ্যাঁকা দিয়ে অন্য প্রেমিকের হাত ধরে চলে যায়। তারপর মফিজ এই লেকের পাশে এসে তার জীবন আত্দাহুতি দেয়। সেই থেকে এই লেকের নাম হয় মফিজ লেক।

সুবিশাল লেকের পার ধরে হাঁটার সময় দুই পাশের নাম না জানা গাছ-গাছালি দেখে এটাকে সুন্দর বন ভেবে ভুল করতে পারেন। আবার কখনো উঁচু-নিচু টিলা দেখে মনে হতে পারে আপনি বুঝি চলে এসেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম।আপনি স্বচ্ছ পানির দিকে তাকিয়ে হাঁটতে থাকবেন আর দেখবেন ঝাঁকে ঝাঁকে ছোটমাছ।

এছাড়াও আপনি অজস্র বুনো ফুল মাড়িয়ে এগিয়ে যেতে থাকবেন। না চাইলেও আপনার কানে কানে ভেসে আসবে দোয়েলের শিশ, শালিকের ডাক, ডাহুকের গানসহ অনেক চেনা-অচেনা পাখির কণ্ঠের সুরেলা আওয়াজ। আপনি একবার তাকাতেই ফুড়ুৎ করে উড়ে গিয়ে লুকাবে পাতার ফাঁকে। এবার একটু আকাশের দিকে তাকাবেন- আপনার চোখে ধরা পড়বে অতিথি পাখির ঝাঁক।

শিক্ষার্থীরা এখানে এসে প্রাণ খুলে গান গায়, আড্ডা দেয়। শীত মৌসুমে এই লেকের দুই ধারে ফুটে সাদা কাশফুল ও হরেকরকমের বন্য ফুল। সুদূর সাইবেরিয়া থেকে অতিথি পাখি এসে লেকের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দেয়।

সারা দিনের মফিজ লেক ভ্রমণ শেষে আপনি এই লেকের পানির মতো স্বচ্ছ সুন্দর একটি মন, দখিনা বাতাসে সতেজ শরীর আর নির্ভেজাল অনুভূতি নিয়ে ঘরে ফিরতে পারবেন। আপনার কানে বাজতে থাকবে পাখির গান, বাতাসে ভাসতে থাকবে বুনো ফুলের সুমধুর ঘ্রাণ। তাহলে আর দেরি কেন, সুযোগ পেলেই একবার ঘুরে যাবেন এই অনন্য সাধারণ লেকটি।

উপরে