ঢাকা, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
রূপসা জমিদার বাড়ী

রূপসা জমিদার বাড়ী

20Fours Desk | আপডেট : ২৮ মার্চ, ২০১৯ ১২:৩৪
রূপসা জমিদার বাড়ী

চাঁদপুর জেলায় বিভিন্ন উপজেলায় লুকিয়ে রয়েছে স্মৃতি বিজড়িত দর্শনীয় স্থান। এসবের ইতিকথা হয়তো অনেকেই জানেননা আবার যারা জানতেন তারা অনেকেই হয়তো আর পৃথিবীতে নেই। তেমনি এক স্মৃতি বিজড়িত দর্শনীয় স্থানের নাম রূপসা জমিদার বাড়ী।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও সুদীর্ঘ ঐতিহ্যই এর রূপের অহংকার। প্রায় দু’শতাব্দী আগের কথা।  যখন এ অঞ্চলের বেশীরভাগ জনপদগুলোতে উন্নত সভ্যতার আলোর ছোয়া পায়নি। চাদের নামে নাম চাদপুর জেলার সুপ্রাচীন জনপদ ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা গ্রাম তখনও স্নিগ্ধতায় সমৃদ্ধ ছিলো। সমৃদ্ধশালী এ গ্রামটির গৌরবময় ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে আছে ঐ গ্রামেরই ঐতিহ্যবাহী জমিদার পরিবারের ইতিহাস।

ইতিহাসঃ
প্রায় ২৫০ বৎসর আগে বংশাল গ্রামের বর্তমান খাজুরিয়া গ্রামের হিন্দু জমিদারদের জমিদারির পতন হলে ব্রিটিশদের কাছ থেকে এই জমিদারি কিনে নেন রূপসা জমিদার বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি রূপসা জমিদার বাড়িটি প্রতিষ্ঠিত করেন। তবে এই জমিদার বাড়ির প্রতিষ্ঠাতাকে নিয়ে কিছু মতামত রয়েছে। একটি মতে এই জমিদার বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আহম্মদ রাজা নামের একজন। আর আরেকটি মতে এই জমিদার বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মোহাম্মদ গাজী নামের একজন। তবে বেশি প্রসিদ্ধ হচ্ছে আহম্মদ রাজা নামের একজনই এই রূপসা জমিদার বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা। আর ওনার সন্তান ছিলেন মোহাম্মদ গাজী। আহম্মেদ রাজার মৃত্যুর পর এই জমিদার বাড়ির জমিদারিত্ব গ্রহণ করেন মোহাম্মদ গাজী। তারপর মোহাম্মদ গাজীর মৃত্যুর পর এই জমিদার বাড়ির জমিদারিত্ব পান তার সন্তান আহমেদ গাজী। এই জমিদাররা খাজনার জন্য প্রজাদের উপর কখনো অত্যাচার জুলুম করতেন না। উল্টো প্রজাদের দুঃখ-দুর্দশার সময় তাদেরকে সাহায্য করতেন। তাই তাদেরকে প্রজারা অনেক শ্রদ্ধা করত, যা এখনো বিদ্যমান রয়েছে সাধারণ মানুষের কাছে। এই রূপসা জমিদার পরিবারের একজন হলেন খান বাহাদুর আবিদুর রেজা চৌধুরী। তিনি ব্রিটিশ শাসনামলে নামকরা রাজনীতিবিদ ও সমাজকর্মী ছিলেন। এই জমিদার বাড়ির বংশধররা এখনো এই বাড়িটিতে বসবাস করতেছেন।


জমিদার বাড়ির অবকাঠামোঃ
জমিদার বাড়ির সামনে বিশাল মাঠ। জমিদার বাড়িতে ইট দিয়ে তৈরি করা মোট তিনটি ভবন আছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে মূল ভবন, আর একটি আছে মুল ভবনের বাম পাশে এবং আরেকটি আছে মূল ভবনের পিছনে। এছাড়াও আছে ঢেউটিন দিয়ে তৈরি করা তিনটি ঘর। জমিদার বাড়িতে ঢুকার পথে ডানপাশে আছে জমিদার বাড়ির মসজিদ এবং জমিদার বাড়ির কবরস্থান। আর ঘাটবাঁধানো একটি বিশাল পুকুর ও জমিদার বাড়ির প্রবেশদ্বার।

বাংলাদেশে অবস্থিত বেশিরভাগ জমিদার বাড়িই অযত্ন ও অবহেলার কারণে প্রায় ধ্বংসের মুখে। কিন্তু রূপসা জমিদার বাড়ি এখনো প্রায় আগের মতই আছে। রূপসা জমিদার বাড়িতে প্রবেশ পথে একটি গেইট রয়েছে, ভিতরে একটি মসজিদ, জমিদার পরিবারবর্গের একটি কবরস্থান, একটি কাছারি ঘর রয়েছে।

উপরে