ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৯
রামসাগর

ছুটির দিনে ঘুরে আসুন রামসাগর

20fours Desk | আপডেট : ৩১ জানুয়ারি, ২০১৯ ০৭:৪৮
ছুটির দিনে ঘুরে আসুন রামসাগর

বিভিন্ন প্রয়োজনে এদেশে গ্রাম কিংবা শহর বিভিন্ন জায়গায় তৈরী হয়েছে বিভিন্ন পুকুর বা দীঘি। এর মধ্যে অনেক দীঘি তৈরী হওয়ার পেছনে রয়েছে বিশাল ইতিহাস। এরকমই একটি দীঘি হল দিনাজপুরের “রামসাগর”। নামের শেষে সাগর থাকলেও এটি আসলে দীঘি। তবে বিশালতায় যেন সাগরেরই সমান।উত্তরাঞ্চলের পর্যটকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় জায়গা এটি।

রামসাগর দিনাজপুর জেলার তাজপুর গ্রামে অবস্থিত মানবসৃষ্ট দিঘি। এটি বাংলাদেশে মানুষের তৈরি সবচেয়ে বড় দিঘি।তটভূমিসহ রামসাগরের আয়তন ৪,৩৭,৪৯২ বর্গমিটার, দৈর্ঘ্য ১,০৩১ মিটার ও প্রস্থ ৩৬৪ মিটার। গভীরতা গড়ে প্রায় ১০ মিটার। পাড়ের উচ্চতা ১৩.৫ মিটার। দীঘিটির পশ্চিম পাড়ের মধ্যখানে একটি ঘাট ছিল যার কিছু অবশিষ্ট এখনও রয়েছে। বিভিন্ন আকৃতির বেলেপাথর স্ল্যাব দ্বারা নির্মিত ঘাটটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ছিল যথাক্রমে ৪৫.৮ মিটার এবং ১৮.৩ মিটার। দীঘিটির পাড়গুলো প্রতিটি ১০.৭৫ মিটার উঁচু।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, পলাশী যুদ্ধের প্রাক্কালে রাজা রামনাথ দীঘিটি খনন করিয়েছিলেন, যাঁর নামানুসারে দীঘিটির নামকরণ করা হয়েছে। সেসময় বাংলার নবাব ছিলেন আলীবর্দী খান। আশপাশের গ্রামবাসীদের পানি সরবরাহ করার উদ্দেশ্যে দীঘিটি খনন করা হয়। বলা হয়ে থাকে যে, দেশের এই স্থানে ১৭৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৭৫৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত খরা ও দুর্ভিক্ষ নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছিল। রাজা রামনাথ সম্ভবত দুর্ভিক্ষপীড়িত অধিবাসীদের দুর্দশা লাঘবের উদ্দেশ্যে ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচির ভিত্তিতে দীঘিটি খননের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। দীঘিটি খননে মোট ব্যয় হয়েছিল তৎকালীন আমলের প্রায় ৩০ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে রামসাগর একটি বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। দীঘি এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য কর্পোরেশন বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দীঘিটির পশ্চিম পার্শ্বে একটি রেস্টহাউজ নির্মাণ করা হয়েছে এবং বিশাল জলাশয়ের চারিপাশে একাধিক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে।

যেভাবে যাবেনঃ
দিনাজপুর সদর উপজেলার তাজপুর গ্রামে অবস্থিত এই রামসাগর জাতীয় উদ্যান। দিনাজপুর পার্বতীপুর রেলস্টেশন থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরেই অবস্থিত এই রামসাগর।

উপরে