ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৮
বিমানের চাকার গ্যাস

বিমানের চাকায় কি গ্যাস ব্যবহার করা হয় জানেন?

20Fours Desk | আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১০:০৩
বিমানের চাকায় কি গ্যাস ব্যবহার করা হয় জানেন?

মানব ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন আবিষ্কার হলো চাকা। মানব সভ্যতার জন্য নিঃসন্দেহে এটি একটি মাইলফলক।মানব সভ্যতার সবচেয়ে বেশী পরিবর্তন আসে চাকা আবিষ্কারের মধ্যদিয়ে। কালের পরিক্রমায় এবং নানা বিবর্তনে এই চাকা আজ আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসের মধ্যে একটি। একবার ভেবে দেখুন তো এই চাকা না থাকলে আজ আমাদের জীবনটা ক্যামন হত! পায়ে চলা সাইকেল থেকে শুরু করে বিশাল এরোপ্লেন সবই অচল এই চাকা ছাড়া।

আবিষ্কারের পর থেকে খুব দ্রুতই চাকার অনেক উন্নতি হয়েছে।এখন বিভিন্ন গাড়িসহ অন্যান্য যানবাহনে ব্যবহৃত হচ্ছে বাতাসভর্তি চাকা। যার রিমের উপরে থাকে টায়ার। এই টায়ার তৈরি হয় সিনথেটিক রাবার, প্রাকৃতিক রাবার, বিভিন্ন ধরনের ফেব্রিক্স আর বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান দিয়ে।আর টায়ারের মাঝে বায়ুভর্তি রাবারের টিউব ব্যবহারের ফলে ব্যবহারের চাকা আরো বেশি কার্যকরী হয়ে উঠে।সাধারণত ভূ-পৃষ্ঠে চলাচলকারী যানবাহনগুলো যেমন বাস, ট্রাক বা গাড়ি ইত্যাদিতে এধরনের চাকা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কিন্তু মজার বিষয় হলো, উড়োজাহাজ বা আকাশ যানের চাকায় কিন্তু সাধারণ বাতাসের পরিবর্তে নাইট্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। কিন্তু কেন ?

উড়োজাহাজের চাকায় নাইট্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করা হয় এর  নিষ্ক্রিয় ধর্মের কারণে। উড়োজাহাজের ট্যাক্সিং এর জন্য সবচেয়ে জরুরী যে অংশটি, তা হচ্ছে ল্যান্ডিং গিয়ার। এখানেই এর চাকাগুলো যুক্ত থাকে। ল্যান্ডিং গিয়ারের উপর ভর করেই উড়োজাহাজের উঠা-নামা করে থাকে।বড় বড় যাত্রীবাহী বিমানগুলো সাধারণত ৩০ হাজার ফুট থেকে ৬৫ হাজার ফুট উচ্চতা দিয়ে চলাচল করে। আর এই উচ্চতায় বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা থাকে সাধারণত মাইনাস ৪৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা তার চেয়েও কম। সাধারণ বাতাসে সবসময়ই অক্সিজেন এবং  জলীয় বাষ্প থাকবেই। যদি বিমানের চাকায় সাধারণ বাতাস ব্যবহার করা হয়, তাহলে এই নিম্ন তাপমাত্রায় জলীয় বাষ্প জমাট বেঁধে ছোট ছোট বরফের টুকরায় পরিণত হবে। আর এতে চাকার চাপ পরিবর্তন হয়ে যাবে। এ অবস্থায় বিমান অবতরণ করলে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। একই সাথে সাধারণ বাতাসে শতকরা ২০ ভাগ অক্সিজেন। অক্সিজেন টায়ারের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে টায়ারের রাবারকে অক্সিডাইজ করে ফেলে।অক্সিডাইজ রাবারের সহনশীলতা অনেক কম থাকে।তাই বিমান অবতরণের সময় টায়ার ফেটে যেতে পারে। এছাড়াও বিমান যখন অবতরণ করে তখন একেকটি চাকায় প্রায় ৩৮ টন চাপ পড়ে এবং বিমানের গতি থাকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। এই বিপুল পরিমাণ চাপ এবং প্রচুর গতিবেগের কারণে বিমান যখন রানওয়ে স্পর্শ করে, তখন চাকার সাথে রানওয়ের প্রচণ্ড ঘর্ষণ তৈরি হয়। আর এই ঘর্ষণের ফলে তৈরি হয় আগুনের স্ফুলিঙ্গ ও প্রচুর তাপ । আর যেহেতু অক্সিজেন দহন সহায়ক একটি গ্যাস তাই সহজেই আগুন ধরে যেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

নাইট্রোজেন গ্যাসের মেল্টিং পয়েন্ট মাইনাস ২১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাই মাইনাস ৪৪ ডিগ্রী বা তার চেয়েও কম তাপমাত্রায় এর কোনো পরিবর্তন হয় না এবং চাপ অপরিবর্তিত থাকে। আবার এই গ্যাস নিস্ক্রিয় হওয়ায় অতিরিক্ত চাপ এবং তাপেও এটি আগুন লাগাতে পারে না । তাই বিমান অবতরণের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত এই দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করে। তাই ইদানিং  রেসিং কারের টায়ারেও নাইট্রোজেন ব্যবহার করা হচ্ছে!

উপরে