ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৮
মোবাইলের আসক্তি

আপনি লুডিক লুপে আটকে আছেন। মোবাইলের আসক্তি কমানোর টিপস।

20fours Desk | আপডেট : ১৯ মার্চ, ২০১৮ ০৯:৪৭
আপনি লুডিক লুপে আটকে আছেন।  মোবাইলের আসক্তি কমানোর টিপস।

প্রযুক্তিবহুল জীবন যাপনের কারণে এখন মাত্র পাঁচমিনিটের জন্যও অবসর পাওয়া সম্ভব হয় না। আর আমি শান্তিতে আছি বলাটাও এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
 
আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি যখন “অন” এবং “অফ” বা গণ এবং ব্যক্তিগত সময়ের মধ্যে আর কোনো ফারাক থাকছে না। আমরা বিষয়টি বুঝতে পারি বা না পারি বাস্তবতা হলো আমাদের আর অবসর নেই। এমনকি ঘরের ভেতরেও সেলফোন, ল্যাপটপ ও ট্যাবলেটের মাধ্যমে দুনিয়াটা যেন বন্যা হয়ে প্রবেশ করে। আর আমরাও যেন সবসময়ই ফোন কলের অপেক্ষায় থাকি। আমরা আসলে সারাক্ষণই এখন অন মুডে থাকি। ফলে আমাদের স্নায়বিক পদ্ধতি অনবরত যুদ্ধ বা ওড়ার দশায় আটকে পড়েছে। আমরা সারাক্ষণই ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত এবং উদ্ভ্রান্ত হয়ে থাকি। কোথাও যেন একটু পরিত্রাণের সুযোগ নেই।
 
নির্মম পরিহাস হলো কম্পিউটারেরও সচল থাকার জন্য দিনে অন্তত একবার হলেও বন্ধ থাকতে হয়। অথচ আমরা মানুষেরা ভাবছি আমরা বুঝি বিরতিহীনভাবে কাজ করে যেতে পরব।

গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিটি গড়পড়তা মানুষ দিনে তার স্মার্টফোন চেক করে ১৯০ বার। প্রযুক্তিগত বিপ্লবের ফলে আমরা এখন সারাক্ষণই অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন এবং বিনোদনের মধ্যে থাকতে সক্ষম হচ্ছি। কিন্তু এর ফলে আমরা বর্তমান ও নিজের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছি।
 
প্রযুক্তিবহুল জীবনের নেতিবাচক পরিণতি সম্পর্কে সচেতন না হয়ে বরং আমরা এর মধ্যেই ডুবে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত। প্রযুক্তির আসক্তিও অন্য যে কোনো নেশায় আসক্তির মতো। প্রযুক্তিবহুল যুগের আগে লোকে যখন কোনো নেশায় আসক্ত হত তখন সমাজ থেকে তাকে বের করে দেওয়া হত। কিন্তু এখন আমরা সমাজের সকলেই প্রযুক্তির নেশায় আসক্ত। আমরা সকলেই একটি আসক্ত ক্লাবের অংশ। ফলে এই আসক্তি নিয়ে কারো কোনো মাথা ব্যাথা নেই।

সত্যি বলতে কি প্রযুক্তির কারণে এটা ঘটেনি। বরং প্রযুক্তি আমাদের মধ্যে আমাদের সবচেয়ে আদিম দিকটি উস্কে দিয়েছে। প্রযুক্তি আমাদের সরীসৃপসুলভ সত্ত্বাকে জাগিয়ে তুলেছে। এই সত্ত্বাটি হলো আপনার ভেতরের মাত্র পাঁচ বছরের শিশুটি। সে যা কিছু চায় তা তাৎক্ষণিকভাবেই চায়। এমনকি সে যা চাচ্ছে তা তার জন্য ক্ষতিকর নাকি উপকারি তাও বিচার-বিবেচনা করে দেখে না। আর আমাদের সকলের মধ্যেই এমন একটি অবুঝ শিশু বাস করে।
ফলে আমরা এখন প্রযুক্তির হাতেই আত্মসমর্পন করেছি। প্রযুক্তির হাতেই আমরা নিজেদেরকে তা কীভাবে আমাদের ব্যবহার করবে তার ভার অর্পণ করেছি। প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণ না করে বরং আমরা নিজেরাই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণাধীন হয়ে পড়েছি।

অনেক চেষ্টা করেও আমরা মোবাইল ফোনে আসক্তি থেকে বের হতে পারি না। আসুন জেনে নেই কি উপায়ে মোবাইলের আসক্তি কমানো সম্ভব।  

 ১.  ‘না’ বলার উপর জোর দিন:
নিজের মনকে স্থির করতে হবে এবং বলতে হবে 'আমি আমার মোবাইল ফোনটি প্রতিদিন এক ঘন্টার বেশি ব্যবহার করবো না' এবং কোনোভাবেই এই চিন্তার বাইরে যাওয়া যাবে না।

২. ফোনের থেকে দূরত্ব সৃষ্টি করুন:
খুব বেশি জরুরি প্রয়োজন না হলে মোবাইল ফোনটি একেবারে কাছে রাখার দরকার নেই। শুয়ে-বসে হাত বাড়ালেই ফোনটি পাবেন, আসক্তি দূর করতে চাইলে এমন নৈকট্য পরিহার করুন।

৩. ‘লুডিক লুপ’ থামিয়ে দিন:
'লুডিক লুপ' কী? একই কাজ বারবার করতে থাকার ধারণাকেই গবেষকেরা নাম দিয়েছেন ‘লুডিক লুপ’। কখনো কি এমন হয়েছে যে আপনি ভেবেছেন চটজলদি ফোনটা একনজরে দেখেই রেখে দেবেন? এবং তারপর ঘন্টার পর ঘণ্টা কেটে গিয়েছে। এমনটা করা থেকে বিরত থাকুন।

৪. ফোন রেখে, বই ধরুন:
প্রিয় ফোনটি দূরে রেখে এবার প্রিয় বইটি কাছে এনে রাখুন। হাত বাড়ালেই হয়তো ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে না, কিন্তু বইটি তো রয়েছে! এভাবেই অভ্যাস ভাঙার চেয়ে বেশি কাজে লাগবে নতুন অভ্যাস গড়ে তোলা। হতেই পারে বই আপনার পছন্দের নয়। কিন্তু এমন অনেক জিনিস আছে আপনার পছন্দের, মোবাইল ফোনটি দূরে সরিয়ে এবার তাদের সঙ্গে সময় কাটান।

প্রসঙ্গত কারণে আমরা চাইলেও মোবাইল থেকে দূরে থাকতে পারিনা। কিন্তু নিজের সুস্থতার জন্য হলেও মোবাইলে আসক্ত হওয়া থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন।

উপরে