ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৮
এডিএইচডি

এডিএইচডি রোগ ও রোগীদের সম্পর্কে কিছু ভূল ধারণা।

| আপডেট : ২ নভেম্বর, ২০১৭ ১২:৪০
এডিএইচডি রোগ ও রোগীদের  সম্পর্কে কিছু ভূল ধারণা।

এডিএইচডি সম্পর্কে কিছু ভ্রান্ত ধারণা অনেকেই পুষে রাখেন। এসব ভ্রান্ত ধারণসমূহের কয়েকটি নিম্নে দেয়া হলো।

১। সকল এডিডি এবং এডিএইচডি আক্রান্তরা হাইপার‍্যাক্টিভ বা অতি চঞ্চল

কিছু কিছু এডিডি বা এডিএইচডি আক্রান্ত শিশুরা হাইপার‍্যাক্টিভ হয়। কিন্তু অধিকাংশই মূলত অমনোযোগিতার সমস্যায় ভোগে। যারা অমনোযোগিতায় ভোগে, তারা কেউ কেউ চঞ্চল আচরণ করেনা। বরং তারা নিজ খেয়ালে চলে এবং বোঝালেও বোঝেনা, অর্থাৎ তাদেরকে মোটিভেট করলেও কাজ হয়না।

২।  এডিডি এবং এডিএইচডি আক্রান্তরা কখনোই কিছুতে মনযোগ দিতে পারেনা

এটিও একটি ভুল ধারণা। এডিডি এবং এডিএউচডি আক্রান্তরা যে সকল কাজে তারা আনন্দ পায়, সেগুলোতে মনযোগী হয়। তবে যে সব কাজ একঘেয়ে এবং রিপিটেটিভ,  সেগুলোতে তারা বেশীক্ষন ফোকাসড থাকতে পারেনা।

৩।  এডিডি এবং এডিএইচডি আক্রান্তরা  ভাল আচরণ করতে পারে, যদি তারা ইচ্ছে করে

এটি একটি কমন ভুল ধারণা। তারা তাদের সাধ্য অনুযায়ী ভাল পারফরমেন্স দেখাতে পারে। কিবতু তাদের অসুবিধাটাই হচ্ছে তারা মনযোগ ধরে রাখতে পারেনা, শান্ত হয়ে এক জায়গায় বেশিক্ষন বসে থাকতে পারেনা, এবং স্থির নয়। নির্দেশনা পালনের ক্ষেত্রে তাদেরকে অবাধ্য মনে হলেও তা ইচ্ছে করে করছে না।

৪।  এডিডি এবং এডিএইচডি আক্রান্ত শিশুরা বড় হলে নিজে নিজেই ঠিক হয়ে যাবে

আমাদের দেশে অনেক বাবা মা এ ধরণের ভাবনা নিয়েই চলেন। "এখন ছোট তো, তাই বুঝেনা। বড় হলে নিজে নিজেই ঠিক হয়ে যাবে। আরে অমুকের ছেলেও তো ছোটবেলায় কি দুস্ট ছিল! এখন কত শান্ত হয়ে.....। " এ ধরণের বর্ননা অধিকাংশ বাড়িতেই আমরা শুনতে পাই। সনাক্তকরনের পর পরই যথাযথ চিকিৎসা করানো হলে তারা দ্রুত মনযোগী হতে পারবে এবং তাদের লার্নিং ক্যাপাসিটি বাড়বে।

৫।  এডিডি/এডিএইচডি শুধুমাত্র মেডিকেশনেই নিরাময় সম্ভব

অনেক ক্ষেত্রেই এডিডি/এডিএইচডির জন্যে ঔষধ দেয়া হয়। কিন্তু এটাই সর্বশেষ বা চুড়ান্ত নয়।  এ রোগের জন্যে কার্যকরী চিকিৎসা বলতে ঔষধের পাশাপাশি বিশেষ সমন্বিত পদ্ধতিতে লেখাপড়া, বিহেভিয়র থেরাপি,  স্কুল ও বাসায় সাপোর্ট এবং সঠিক নিউট্রিশন নিশ্চিত করলে ভাল ফলাফল পাওয়া সম্ভব।

উপরে