ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৯
পুরো মুখ ব্রণে ছেয়ে গেছে?

পুরো মুখ ব্রণে ছেয়ে গেছে? কমিয়ে ফেলুন নিমেষেই!

20fours Desk | আপডেট : ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১১:৪১
পুরো মুখ ব্রণে ছেয়ে গেছে? কমিয়ে ফেলুন নিমেষেই!

আমাদের মুখের ত্বক আমাদের কাছে সবচেথে বেশি গুরুত্বপুর্ণ। কারণ এর মাধ্যমেই আমাদের বাহ্যিক সৌন্দর্য প্রকাশ পেয়ে থাকে। তাই মুখের সৌন্দর্য ধরে রাখতে আমরা কত কিছুই না করে থাকি। তবে আমাদের মুখের সৌন্দর্য একদম ম্লান করে দেয় ব্রণ। আসলে ব্রণ হলো এমন একটি সমস্যা যার কারণে আমাদের সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিতে পরতে হয়। আসলে আমাদের বয়ঃসন্ধির সময় থেকেই মুখে ব্রণ উঠতে শুরু করে। আর এরপর থেকে চলতে থাকে। অনেক সময় ব্রণের সমস্যা এতটাই বেশি হয়ে যায় যে তা আমাদের অনেক ভাবিয়ে তোলে। আসলে আমাদের লোমকূপের তলায় তৈলনিঃসরণ গ্রন্থি এবং মৃত কোষের কারণে এই সমস্যা হইয়ে থাকে। আর এই ব্রণ কমাতে আমরা কতকিছুই না করে থাকি। কিন্তু বেশির ভাগ সময় আমাদের সবরকম চেষ্টা বিফলে চলে যায়। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে, বড়নের সমস্যা কমাতে কিছু কারররতযকর ওষুধ আমাদের হাতের একদম কাছেই রয়েছে। যা খুব দ্রুততার সাথে ব্রনের সমস্যা একদম কমিয়ে ফেলে। কিন্তু কিভাবে? তাহলে আসুন আজ জেনে নিই কিভাবে খুব সহজেই ব্রনের সমস্যা একদম কমিয়ে ফেলা যায়।

যেভাবে কিমিয়ে ফেলবান ব্রণের সমস্যাঃ

১। শসাঃ
শসা আমাদের মানদেহের জন্য অত্যান্ত উপকারি একটি সবজি। এটি খেলেও যেমন উপকার মিলে থাকে, তেমনি এর ব্যাবহারেও আছে অনেক উপকার। বিশেষ করে ব্রণের সমস্যা সমাধানে এর জুড়ি নেই। আসলে শসায় আছে ভিটামিন এ, ডি এবং ই। যা আমাদের ত্বকের জন্য ভীষণ উপকারি। তাই যারা ব্রণের সমস্যায় ভুগছেন বা যাদের মুখ ব্রণে ছেয়ে গেছে তারা শসাকে কাজে লাগিয়ে পেতে পারেন ব্রণহীণ মুখ। এজন্য শসা থেঁতো করে মুখে লাগিয়ে ২০-২৫ মিনিট রেখে দিন। তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে ফেলুন। নিয়মিত এভাবে পরিচর্যা করলেই পাবেন একদম ব্রণহীন সুন্দর ত্বক। এছাড়াও শসা গোল গোল করে কেটে একঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর সেই পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে পারেন কিংবা এই শসা ভেজানো পানি খেতেও পারেন। এতেও ব্রণের সমস্যা অনেক কমে আসবে।

২। টুথপেস্টঃ
দাঁতের যত্নে টুথপেস্টের বিকল্প নেই। টুথপেস্ট আমাদের দাঁতকে যেমন পরিষ্কার করে, তেমনি আমাদের মুখের ভেতর রাখে জীবাণু মুক্ত। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে, আমাদের ত্বকের ব্রণ নিরাময়েও কিন্তু টুথপেস্ট অনেক উপকারি। বিশেষ করে তৈলাক্ত ত্বকের ফলে যাদের মুখ ব্রণে ছেয়ে গেছে, তারা টুথপেস্ট ব্যবহার করে অনেক উপকার পেতে পারেন। কারণ টুথপেস্টের অতিরিক্ত তেল শুষে নেওয়ার ক্ষমতা আছে। তাই সামান্য টুথপেস্ট নিয়ে ফেসপ্যাকের মত হালকা করে মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিন। তারপর একটি ভেজা তোয়ালে দিয়ে মুখের পেস্ট ভালো ভাবে মুছে ফেলুন। এরপর মুখে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। তারপর মুখে ভালো ব্রান্ডের অয়েল ফ্রি ময়েশ্চারাইজার মেখে নিন। এভাবে সপ্তাহে একদিন ব্যাবহার করেলেই আপনি ব্রন থেকে মুক্তি পাবেন।

৩। গ্রিন টিঃ
চা পছন্দ করে না এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। শরীরকে চাঙ্গা রাখতে চা সারা বিশ্ব জুড়ে সমাদৃত। কিন্তু চা যে শুধু আমাদের শরীর চাঙ্গা রাখে তা কিন্তু নয়, এটি আমাদের মুখের ব্রণ কমাতেও অনেক উপকারি। তবে সব চা কিন্তু মুখের ব্রণ কমাতে পারে না। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উপকারি হলো গ্রীন টি বা সবুজ চা। প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ সবুজ চা মাদের মুখের ব্রণ কমাতে অনেক উপকার করে থাকে। এজন্য গরম পানিতে গ্রীন টি বানিয়ে সেটি ঠান্ডা করুন। এরপর তুলোয় ভিজিয়ে ব্রণের জায়গার ব্যবহার করুন। আবার টি ব্যাগটি দিয়েও ব্রণের জায়গার হালকা ম্যাসাজ করুন। তারপর ২০ রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহার করলেই দেখবেন ব্রণের সমস্যা একদম উধাও হয়ে যাবে।

৪। অ্যাসপিরিনঃ
অ্যাসপিরিন আমাদের খুবই পরিচিত একটি ওষুধ। সাধারণত মাথাব্যাথা হলে আমরা এই ওষুধটি খেয়ে থাকি। তবে আমরা অনেকেই জানি না যে, মাথাব্যাথা কমানোর এই ওষুধটি কিন্তু ব্রণ ক্মাতেও অনেক উপকারি। আসলে এতে থাকা স্যালিসাইলিক অ্যাসিড ব্রণ তাড়াতাড়ি শুকিয়ে দেয়। এজন্য কয়েকটি অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট নিয়ে ভালো ভাবে গুঁড়ো করে নিতে হবে। এরপর এই গুঁড়োর সাথে অল্প পানি মিশিয়ে একটি পেস্ট বানাতে হবে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এই পেস্ট ব্রণে আক্রান্ত জায়গায় লাগিয়ে শুয়ে পড়ুন। সকালে উঠে ধুয়ে ফেলুন। ১৫ দিন পর পর ব্যাবহার করলেই আপনি পাবেন ব্রণহীন ত্বক। তবে ত্বক খুব স্পর্শকাতর হলে, কয়েক মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে নিতে পারেন।

৫। রসুনঃ
খাবার স্বাদ বাড়াতে রসুনের কথা আমরা সবাই জানি। একই সাথে এর অনেক উপকারি গুন  আমাদের শরীরের বিভিন্ন উপকারে লেগে থাকে। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে, ব্রণের বড় শত্রু হলো রসুন। আসলে রসুনে থাকা বেশ কিছু প্রাকৃতিক উপাদান ব্রণ কমাতে অনেক উপকার করে থাকে। এজন্য রসুনের কয়েকটি কোয়া পাতলা পাতলা করে কেটে নিয়ে এর রস বের করুন। তারপর রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এই রস মুখে ব্রণে আক্রান্ত জায়গা গুলোতে লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়ূন। সকালে উঠে মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে ফেলুন। সপ্তাহে একদিন ব্যবহার করলে দেখবেন ব্রনের সমস্যা একদম হাওয়া হয়ে গেছে।

উপরে