ঢাকা, বুধবার, ২৬ জুন, ২০১৯
শিশুর ভাল গুণাবলীর চর্চা

শৈশব থেকেই শুরু হোক শিশুর ভাল গুণাবলীর চর্চা

20fours Desk | আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২২:১৫
শৈশব থেকেই শুরু হোক শিশুর ভাল গুণাবলীর চর্চা

একটি সন্তান জন্মের পর প্রত্যেক বাবা মায়ের স্বপ্ন থাকে যে তার সন্তান যেন ভালো গুণাবলীর অধিকারী হয়। আর একজন সন্তানের সঠিক গুণাবলী বিকাশের শুরুটা হয় শৈশব থেকেই। কারণ শৈশব থেকে আপনি আপনার শিশুকে যা শিখাবেন তাই শিখবে, আর এক্ষেত্রে অভিভাবক হিসেবে আপনি সন্তানের মধ্যে বিভিন্ন গুণাবলী বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারেন। তাকে সঠিক আচরণ শেখাতে এবং সঠিক পথে চলতে দিক নির্দেশনা দিতে পারেন। জেনে নিন, তাহলে শৈশব থেকেই কিভাবে শিশুর ভাল গুণাবলীর চর্চা করবেন।

১। সত্যবাদী হওয়াঃ

একটি সন্তান বড় হতে গেলে শৈশব থেকেই তাকে ভালো গুণে গুণানিত করতে গেলে সত্য কথা বলতে শেখাতে হবে। অরাজকতার যুগেও আমাদের প্রিয় “মহানবী (সঃ)”-তাঁর সত্যবাদীতার জন্য ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। তাই শৈশব থেকে শিশুকে সত্যবাদী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

২।  বড়দের শ্রদ্ধা করাঃ

শিশুর মধ্যে যদি শ্রদ্ধাবোধ থাকে তাহলে সে অবশ্যই বড়দের শ্রদ্ধা করবে। এজন্য শিশুকে শৈশব থেকে ভালো খারাপ শিখাতে হবে।

৩। সুন্দর ব্যবহার করাঃ

একটি শিশুর বড় গুণ হলো তার ভালো ব্যবহার। কারণ ভালো ব্যবহার আর কথা দিয়ে করা যায় না এমন কোন কাজ নেই। তাই বাচ্চাকে শৈশব থেকে সুন্দর ব্যবহার করা শেখাতে হবে। সে যেন ছোটবড় সবার সাথে ভাল ব্যবহার করে সে খেয়াল রাখতে হবে।

৪। দায়িত্বশীল হওয়াঃ

শিশু জন্মের পর যখন বড় হয়ে উঠতে শুরু করে তখন তাকে দায়িত্বশীল আচরণ শেখাতে হবে। তাকে বোঝাতে হবে কোন কাজই ছোট নয়। তাকে তার নিজের কাজ নিজে করতে দিন। এমনকি তার ছোট ভাইবোনদেরকেও খেয়াল রাখতে বলুন। এতে করে দায়িত্ব সম্পর্কে অনেকটা ধারণা পাবে। আর দরকার হলে তাকে সাহায্য করুন এবং এক্ষেত্রে বকা বা জোর করে কোন কাজ করাতে যাবেন না।

৫।  ভাল খারাপের পার্থক্য বুঝতে পারাঃ

সব কিছু জিনিসের ভালো খারাপ দিক আছে। তাই বাচ্চাকে শৈশব থেকে ভালো খারাপের পার্থক্য বোঝাতে হবে। তাহলে সে ভালো দিকগুলো গ্রহণ করতে শিখবে এবং মন্দ দিকগুলো বর্জন করতে শিখবে।

৬। নিয়মিত প্রার্থনা করাঃ

ছোটবেলা থেকেই প্রত্যেক শিশুকে সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে নিয়মিত প্রার্থনা করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। এতে একগ্রতা, ধৈর্য বাড়ে, মনে প্রশান্তি আসে।

৭।  সময়ের মূল্য বুঝতে পারাঃ

শিশুকে শৈশব থেকে বোঝাতে হবে সময়ের ব্যাপারে। কারণ সময় জ্ঞান না থাকলে জীবনে কিছুই করা যায় না। প্রবাদ আছে, “সময় ও নদীর স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না।” তাই শিশুকে বোঝাতে হবে নির্দিষ্ট সময়ের মাঝেই কাজ শেষ করা উচিত।

৮। ধৈর্যশীল হওয়াঃ

শিশুকে শৈশব থেকে বোঝাতে হবে কোন কাজে হতাশ হওয়া যাবে না।  কারণ ধৈর্য ধরে কাজ না করলে জীবনে ভালো কিছুই পাওয়া সম্ভব নয়। তাই বিফল মনোরথে বসে না থেকে বরং ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আর ধৈর্যশীল মানুষরা এক সময় না একসময় ঠিকই সফল হয়।

উপরে