ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮
বাচ্চার হাত ও পায়ের যত্ন

বাচ্চার হাত ও পায়ের যত্নে করনীয়।

20fours Desk | আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৩:২৯
বাচ্চার হাত ও পায়ের যত্নে করনীয়।

শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য তার হাত ও পায়ের যত্নের ব্যাপারে বাবা মায়ের বিশেষ সতর্ক থাকতে হয়। আজ আমরা আমাদের শিশুদের হাত ও পায়ের যত্ন নেয়ার ব্যাপারে আলোচনা করব।

১। নিয়মিত গোসল করানো

হাত ও পায়ের যত্নে গোসলের কোন বিকল্প নেই। বাচ্চাদের প্রতিদিন অবশ্যই একবার অন্তত ভালোভাবে সাবান বা বডি ওয়াশ দিয়ে গোসল করাতে হবে। গোসলের সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন হাত ও পা ভালভাবে পানি দিয়ে ধোয়া হয়া। নিয়মিত গোসল করানোর মাধ্যমে শিশুর ত্বক হবে মসৃণ। হাত ও পা থাকবে পরিষ্কার।

২। নিয়মিত নখ কাটা

অপরিষ্কার নখ শিশুদের জন্য এক প্রকার বিষের সমান। নখে থাকে অনেক ধরণের রোগের জীবাণু যা খাওয়ার মধ্য দিয়ে শিশুদের পেটের মধ্যে চলে যেতে পারে। তাই বাবা-মাকে শিশুদের নখের যত্নের প্রতি যথেষ্ট সজাগ থাকতে হবে। শিশুদের বাড়ন্ত নখ প্রতি নিয়ত কেটে দিতে হবে। যেহেতু শিশুরা নিজে নিজে নখ কাটতে পারবে না, তাই বাবা-মাকে এর যত্ন নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যাতে করে বাচ্চার নখ খুব বেশি লম্বা হতে না পারে এবং নখের ভেতর কোন রকম ময়লা আটকে না থাকে। শিশুরা সব সময় বিভিন্ন জিনিস নিয়ে খেলা করতে ভালবাসে। তাই নখের নিচে ময়লা আটকে থাকা কোন বিরল ঘটনা নয়।তাই শিশুর যত্নে বাচ্চার নিয়মিত নখ কেটে দেয়াই বাবা মায়ের জন্য সঠিক পরামর্শ।
 
৩। যে কোনো খাওয়ার আগে হাত ধোয়া

যে কোন কিছু খাওয়ার আগে ভালভাবে হাত ধোয়া একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। খাওয়ার সময় হাতের মধ্যে লুকিয়ে থাকা অনেক ধরণের জীবাণু আমাদের পেটের মধ্যে খুব সহজেই চলে যেতে পারে। তাই ছোটবেলা থেকেই শিশুদের খাওয়ার আগে ভালভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

৪। হাত ও পায়ে তেল বা বিভিন্ন ধরণের ক্রিম মালিশ করা

হাত ও পায়ের যত্নে বাজারে বিভিন্ন ধরণের তেল বা ক্রিম বা লোশন পাওয়া যায়। ভাল ব্র্যান্ড দেখে বাচ্চাদের উপযোগী পণ্য ব্যবহার করতে হবে। নিয়মিত তেল বা ক্রিম ব্যবহারে বিভিন্ন ধরণের জীবাণু থেকে হাত পায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।

৫। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে হাত পা ভালভাবে ধোয়া

রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে ভালভাবে হাত পা ধোঁয়া একটা অতিব গুরুত্বপূর্ণ একটা অভ্যাস।এতে করে শরীরের মধ্যে এক ধরণের শ্রান্তির ভাব আসে যা রাতে নিরবিচ্ছিন্ন ঘুমের সহায়ক।

৬। বেবি সোপ/শ্যাম্পু পানিতে হাত পা ভিজিয়ে রাখা

হাত ও পায়ের যত্নে সাবান বা শ্যাম্পু পানিতে হাত পা ভিজিয়ে রাখা খুব উপকারী। কিছুটা সময় এই মিশ্রণের পানিতে হাত পা ভিজিয়ে রাখলে হাত ও পায়ে লেগে থাকা ময়লা গুলো আস্তে আস্তে হালকা হতে থাকে। পরবর্তীতে হালকা গরম পানিতে ধুয়ে ফেললে পুরো শরীর খুব ফুরফুরে লাগে। তাই বাচ্চাদের ছোটবেলা থেকেই এই অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করা উচিৎ।

৭। ঋতুভেদে যত্ন

ঋতুভেদে হাত পায়ের যত্নের ধরণও কিছুটা পরিবর্তন হয়ে থাকে। যেমন শীতকালে হাত ও পা অনেকটাই রুক্ষ হয়ে যায়। এমন অবস্থায় হালকা গরম পানিতে হাত-পা ধুয়ে মইশ্চারাইজিং ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে।এতে করে হাত ও পায়ের শুকনো ভাব দূর হবে।অন্যদিকে গ্রীষ্মের দিনে বাচ্চাদের অনেক বেশি হাত পা ধোয়াতে হতে হয়। বিভিন্ন ঋতুতে ত্বকের অবস্থা বুঝে হাত-পায়ের যত্নের ধরণও কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে।

ট্রিমিং এর উপায়
বাবুর হাতের নখ সুন্দর করে গোল করে কেটে দিলেও পায়ের নখ কাটার সময় সোজা কাটবেন। পায়ের নখের দুইপাশে বেশী করে কাটতে গেলে ইনগ্রোন নেইল বা নখ বেড়ে যেতে পারে ত্বকের ভেতরের দিকেও। তবে খুব ভালো হয় যদি ট্রিম করার সময় সাথে কাউকে রাখলে। সেক্ষেত্রে আপনার পক্ষে সাবধানে ট্রিম করা সহজ

হেয়ার টুর্নিকেট সিনড্রোম

নখ কাটা বা ট্রিম করার সময়ে খেয়াল করুন  যে বাবুর আঙুলে কোন চুল  জড়িয়ে আছে কিনা। এতে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে বা বাবুর আঙুলে বেকায়দা জড়িয়ে আঙুল কেটে আলাদা হয়েও যেতে পারে।

বাবুর নখের স্বাস্থ্য

নখ কাটার পাশাপাশি বাবুর নখে কোনো দাগ আছে কী না ভালভাবে খেয়াল করুন। নখে দাগ থাকার একটা কারণ হতে পারে বাবুর আয়রন ডেফিসিয়েন্সি বা দেহে লৌহের পরিমাণ কমে যাওয়া। । তবে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কিছু না খাওয়ানোই ভালো। বাবুর নখ খুবই পাতলা হয় আর মাঝে মাঝে দেখে মনে হয় ত্বকের ভিতর থেকে সেগুলো বের হয়েছে। এটা নিয়ে ভাবনার কিছু নেই। তবে যখন দেখবেন নখের চারপাশে লাল হয়ে শক্ত হয়ে গেছে, তাহলে কিন্তু ইনফেকশনের ভয় আছে। তখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন। বয়সের সাথে সাথে বাবুর নখ শক্ত হয়ে যাবে, তখন আপনি নিশ্চিন্তেই নখের পরিচর্যা করতে পারবেন।

উপরে