ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮
শিশুর ত্বকের যত্ন

শিশুর ত্বকের যত্নে যা করবেন

20Fours Desk | আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৫:২৪
শিশুর ত্বকের যত্নে যা করবেন

শীতের হাওয়ায় শিশুদের নরম ত্বকে দেখা দিচ্ছে রুক্ষতা ও শুষ্কতা। তাই এ সময় শিশুদের ত্বকের জন্য চাই বিশেষ যত্ন। শিশুদের ত্বক খুবই নাজুক। শীতে শিশুর ত্বক জলীয়বাষ্প হারিয়ে ফেলার কারণে শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে ওঠে। তাই এ সময় শিশুদের ত্বকে লোশন ও ক্রিম লাগানো উচিত। তবে অনেকেই এ সময় বড়দের ক্রিম, লোশন শিশুদেরও লাগিয়ে দেন, যা করা উচিত নয়। কারণ শিশুদের ত্বক বড়দের তুলনায় কোমল এবং স্পর্শকাতর। বড়দের ক্রিম ও লোশন শিশুদের ত্বকে ক্ষতি করতে পারে। তাই লোশন ও ক্রিম হতে হবে শিশুদের উপযোগী।

অলিভ অয়েলঃ
গোসল শেষে ত্বক শুকিয়ে যাওয়ার আগেই শিশুর ত্বকে অলিভ অয়েল, বেবি অয়েল কিংবা ভালো কোনো লোশন লাগিয়ে দিন। দিনে অন্তত দুবার শরীরে এ ধরনের আদ্রতারক্ষক তেল বা লোশন লাগানো ভালো। এ সময় লোশনের চেয়ে ক্রিম বা অয়েন্টমেন্টই ভালো। কেননা এগুলো বেশি আদ্র।আর শীতে ব্যবহারের জন্য শিশুদের ক্রিম, লোশন ময়েশ্চারাইজার যুক্ত হওয়া উচিত। শিশুদের ত্বকের খসখসে ভাব দূর করতে নারিকেল তেলও ব্যবহার করতে পারেন।
 
ডায়পারঃ
শীতে শিশুদের দীর্ঘ সময় ডায়পার পরিয়ে রাখা উচিত নয়। ভেজা ডায়পার থেকে শিশুদের ঠাণ্ডা লাগতে পারে কিংবা ডায়পার র্যাশ উঠতে পারে। নবজাতক শিশুদের শীতে কিছু সময় রোদে রাখুন। কারণ সূর্যের আলোতে ভিটামিন ‘ডি’ আছে। ভিটামিন ‘ডি ’ শিশুদের ত্বকের জন্য খুবই ভালো। তবে বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত শিশুদের রোদে রাখা উচিত নয়।
 
চামড়া ওঠাঃ
শীতে শিশুদের ত্বকের চামড়া অনেক সময় উঠে আসে, যা থেকে হতে পারে চুলকানিও। শিশুদের হাতের সামনের অংশ আর পায়ের পাতার পেছনের অংশে এ সমস্যা বেশি হয়। এর নাম ডামাটাইটিস। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

স্নান করানোর সময়ে খেয়াল রাখুনঃ
শিশুকে স্নান করানোর সময়ে খেয়াল রাখুন জলের তাপমাত্রা যেন খুব বেশি বা কম না থাকে, তাতে আপনার শিশুর সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষতি হতে পারে এবং তার ঔজ্জ্বল্যও হারিয়ে যেতে পারে। সবসময় শিশুকে নাতিশীতোষ্ণ জলে স্নান করান। শিশুকে অবশ্যই রৌদ্রে নিয়ে যান স্নানের আগে। রৌদ্রে ভিটামিন ডি থাকে যা সুস্থ ত্বকের জন্যে খুব জরুরি।

দুধের সর আর বাদাম তেলঃ
এ'দুটি উপাদানও ব্যবহার করতে পারেন শিশুর ত্বকের পরিচর্যার জন্যে। দুধের সর শিশুদের চর্মরোগ নিরাময়ের ব্যাপারেও খুব উপকারী।

ফলের রসঃ
আঙ্গুর, আপেল বা কমলালেবুর মতো বিভিন্ন ফলের রস খাওয়ালেও শিশুদের ত্বক খোলতাই হয়। তবে অবশ্যই মনে রাখবেন যে ফলের রস তিন মাসের কম বয়সী শিশুদের খাওয়ানো বিপজ্জনক কারণ তারা তখনও মায়ের দুধ বা ফর্মুলা মিল্কের উপরেই নির্ভরশীল থাকে

ময়শ্চারঃ
শিশুর ত্বক যাতে শুষ্ক না হয়ে পরে সেদিকে খেয়াল রাখুন। বাচ্চাদের জন্যে তৈরী ময়শ্চারাইজার ক্রিম ব্যবহার করুন। বাজারে এমন ক্রিম প্রচুর পাওয়া যায় তবে শিশুর জন্যে সেরাটাই নেবেন বলে আশা করা যায়। সঠিকটি বাছতে না পারলে চর্ম বিশেষজ্ঞরা সঙ্গে কথা বলুন। আপনার শিশুর ত্বক পরিচর্যার এটাই অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম।

ঘরোয়া বডি প্যাকঃ
শিশুদের ত্বক বড়দের ত্বকের দোষগুণ বেশি সংবেদনশীল। সুতরাং তাদের ত্বকের যত্ন নিতে আপনাকেও সংবেদনশীল হতে হবে। শিশুর ত্বকের যত্ন নিতে সপ্তাহে একবার বডি প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। তবে বাইরের জিনিস না কিনে বাড়িতেই হলুদ, দুধ এবং চন্দনের গুঁড়োর মিশ্রণ বানিয়ে তা শিশুর ত্বকের জন্যে ব্যবহার করতে পারেন।

বেবি স্ক্রাবঃ
শিশুর সংবেদনশীল চামড়ার কথা মাথায় রেখে ঘরে বেসন, দুধ, হলুদ এবং গোলাপজল দিয়ে বানান একটি বিশেষ স্ক্রাব। বাচ্চার নরম ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এই জিনিসটির জুড়ি মেলা ভার।

গরম তেল মালিশঃ
বাচ্চাদের ত্বকের যত্ন নেওয়ার একটি ভীষণ কার্যকর উপায় হচ্ছে গরম তেল মালিশ করা। বংশানুক্রমে চলে আসা এই ত্বক পরিচর্যার পদ্ধতির মাধ্যমে শিশুর চামড়া আরও মসৃন হয় এবং উজ্জ্বল হয়। আপনার শিশুকে আপনি রোজ নিয়ম করে গরম তেল মালিশ করুন। ফল পাবেন হাতেনাতে।

উপরে