ঢাকা, শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৯
কাঁচা পনির খাওয়ার উপকারিতা

প্রতিদিন ১০০ গ্রাম কাঁচা পনির খাওয়ার উপকারিতা জানেন তো?

20fours Desk | আপডেট : ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০৯:৫৬
প্রতিদিন ১০০ গ্রাম কাঁচা পনির খাওয়ার উপকারিতা জানেন তো?

পনিরে রয়েছে প্রচুর পরিমানে পুষ্টিগুণ। তাই নিয়মিত  পনির খাওয়া উচিত। আমরা সাধারণত পনির দিয়ে নানারকম খাবার বানিয়ে থাকি। কিন্তু আমরা অনেকেই কাঁচা পনির খাওয়ার উপকারিতা জানিনা। পনিরে  রয়েছে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, কার্বোহাইড্রেড, ভিটামিন এ, সি, ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং উপকারি ফ্যাট, যার ফলে পনির খেলে আমাদের শরীরের নানা উপকার পাওয়া যায়। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক, ১০০ গ্রাম কাঁচা পনির  খাওয়ার উপকারিতা গুলোঃ

১। এনার্জির ঘাটতি পূরণঃ

সারাদিন কাজ করলে বা কেউ আবার অল্প কাজ করলেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তাই নিয়মিত ১০০ গ্রাম কাঁচা পনির খাওয়া উচিত।  কারণ পনিরে উপস্থিত নানারকম উপকারি উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর তৎক্ষণাৎ শরীরকে চাঙ্গা করে তোলে। ফলে ক্লান্তি দূর হতে সময় লাগে না।

২। নিমেষে যন্ত্রণা কমে যায়ঃ

কাঁচা পনিরে রয়েছে উপস্থিত ওমেগা ৩ এবং ৬ ফ্যাটি অ্যাসিড।  যা শরীরে প্রবেশ করে বডি পেইন, পিঠের যন্ত্রণা এবং জয়েন্ট পেইন কমে যেতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে রিউমাটয়েড আথ্রাইটিসের মতো রোগের প্রকোপ কমতেও সময় লাগে না। তাই নিয়মিত পনির খাওয়া উচিত।

৩। প্রোটিনের ঘাটতি পূরণঃ

পেশীর উন্নতিতে যেমন কাজে লাগে, তেমনি শরীরের অন্দরে প্রতিনিয়ত ঘটে চলা নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ যাতে ঠিক মতো হয় সেদিকে খেয়াল রাখে প্রোটিন। তাই তো দেহে যাতে এই উপাদানটি ঘাটতি কোনও ভাবেই না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা একান্ত প্রয়োজন। আর এই কাজটিতে আপনাকে সাহায্য করতে পারে পনির। তাই যাদের মাছ-মাংস খাওয়ার সেভাবে সুযোগ নেই, তারা পনির খাওয়া শুরু করতে পারেন। দেখবেন উপকার মিলবে।

৪। ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসেঃ

অতিরিক্ত ওজনের কারণে কি চিন্তায় রয়েছেন? তাহলে রোজের ডায়েটে পনিরের অন্তর্ভুক্তি মাস্ট! কারণ প্রটিন সমৃদ্ধ এই খাবারটি খেলে বহুক্ষণ পেট ভরা থাকে। ফলে বারে বারে খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। ফে ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, পনিরে লাইনোলেইক অ্যাসিড নামে একটি উপাদানও রয়েছে, যা শরীরের ইতি-উতি জমে থাকা মেদকে দ্রুত গলিয়ে ফেলতে বিশেষ ভাবে সাহায্য করে। ফলে দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়া কোনও আশঙ্কাই থাকে না।

৫। হার্টের ক্ষমতা বাড়ায়ঃ

পনিরে উপস্থিত পটাশিয়াম, হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এবং রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখতেও এই ডেয়ারি প্রডাক্টের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই দীর্ঘদিন যদি হার্টকে চাঙ্গা রাখতে হয়, তাহলে নিয়মিত পনির খাওয়া উচিত।

৬। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখেঃ

পনির রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ম্যাগনেসিয়াম। এই খনিজটি শরীরের অন্দরে বিশেষ কিছু এনজাইমের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়, যা একদিকে যেমন হাড়ের গঠনে সাহায্য করে, তেমনি ব্রেন ফাংশনে উন্নতি ঘটায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। প্রসঙ্গত, একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে ম্যাগনেসিয়ামের কারণে শরীরে ক্ষরিত হওয়া এনাজইমগুলি রোগ প্রতিরোধ ক্ষণতার উন্নতিতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৭। ব্রেন স্ট্রোকের আশঙ্কা কমায়ঃ

পনির খাওয়া খুবই উপকারী। কারণ এতে থাকা খনিজগুলির দেখা মেলে পনিরের শরীরে, তার মধ্যে অন্যতম হল পটাশিয়াম। তাই নিয়মিত পনির খেলে ব্রেন স্ট্রোকের আশঙ্কা কমে।

৮। ক্যান্সারের হওয়ার আশঙ্কা কমেঃ

পনিরে উপস্থিত ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি শরীরের অন্দরে এমন খেল দেখায় যে ব্রেস্টে ক্যান্সার সেল জন্ম নেওয়ার সুযোগই পায় না। প্রসঙ্গত, হাওয়ার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথের একদল গবেষক টানা ১৬ বছর ধরে এই বিষয়ে গবেষণা চালিয়েছিলেন। পরীক্ষাটি চলাকালীন তারা লক্ষ করেছিলেন ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর এই দুটি উপাদান প্রচুর মাত্রায় রয়েছে পনিরে। তাই এই দুগ্ধজাত খাবারটি সপ্তাহে বার দুয়েক খেলে কী উপকার মিলতে পারে, তা নিশ্চয় আর বলে দিতে হবে না।

৯। হাড় শক্তপোক্ত হয়ঃ

শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা দিলে একদিকে যেমন হাড় দুর্বল হতে শুরু করে, সেই সঙ্গে কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনও বৃদ্ধি পায়। তাই তো প্রতিদিন এক গ্লাস করে দুধ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। কারণ দুধে এই খনিজটি রয়েছে প্রচুর মাত্রায়, যা হাড়ের পুষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। কিন্তু সমস্যাটা হল আপনি তো দুধ খেতে পছন্দ করেন না। তাহলে করবেন কী? সেক্ষেত্রে নিয়মিত পনির খাওয়া মাস্ট! কারণ দুধের মতো অত পরিমাণে না হলেও পনিরেও রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ক্যালসিয়াম, যা শরীরে এই খনিজটির ঘাটতি মেটাতে দারুনভাবে সাহায্য করে থাকে।

১০। দাঁতের ক্ষমতা বাড়েঃ

যেমনটা আগেও আলোচনা করা হয়েছে যে পনিরে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ক্যালসিয়াম, যা শরীরে প্রবেশ করার পর হাঁড়কে যেমন শক্তপোক্ত করে, তেমনি দাঁতের স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে মুখ গহ্বর সংক্রান্ত একাধিক রোগকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

উপরে