ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৮
আদার অসামান্য গুণ

সামান্য আদার অসামান্য গুণ

20fours Desk | আপডেট : ২৭ অক্টোবর, ২০১৮ ১০:৩৫
সামান্য আদার অসামান্য গুণ

আদা কিন্তু শুধু রান্নার স্বাদ বর্ধক মসলাই নয়, বরং সেই প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের নানা রোগের চিকিৎসায় আদা ব্যাবহৃত হয়ে আসছে। এতে প্রচুর পরিমাণে আছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপাটিজ, উপকারি ফ্যাটি অ্যাসিড, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস সহ নানারকম উপকারি উপাদান যা আমাদের জন্য ভীষণ উপকারি। আমাদের রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখার পাশাপাশি আমাদের অতিরিক্ত ওজন কমাতে অনেক সাহায্য করে। এছাড়াও আমাদের শরীরের কোনো ক্ষত স্থান দ্রুত সারিয়ে তুলতে এবং আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যাবস্থাকে অনেক শক্তিশালী করে তোলে আদা। আসুন আজ জেনে নিই নিয়মিত আদা খেলে আমাদের কী কী উপকার হয়ে থাকে।

পুষ্টিগুণঃ

ভিটামিন এ, বি, সি, ই, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, সিলিকন, আয়রন, সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, জিংক এবং বিটা ক্যারোটিনের চমৎকার উৎস আদা। এছাড়াও এতে আছে প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক এবং  অ্যান্টিহিস্টামাইন উপাদান, উপকারি ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান সহ অনেক উপকারী উপদান। যা বিভিন্নভাবে আমাদের অনেক উপকার করে থাকে।

উপকারিতাঃ

১। আদায় প্রচুর পরিমানে প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক এবং অ্যান্টিহিস্টামাইন উপাদান আছে। যা আমাদের শরীরের রোগপ্রতিরধ ক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি করে। ফলে ছোট-খাট বিভিন্ন রোগ ধারের কাছে ঘেঁষতে পারে না।একই সাথে আদা শক্তি বর্ধক। শারীরিক দূর্বলতা কিংবা শক্তিহীনতায় আদা ভীষণ উপকারী। এছাড়াও আদা খেলে পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত আদার সাথে আধা সেদ্ধ ডিম খাওয়ার অভ্যাস করলে পুরুষের সহজেই স্পার্ম কাউন্ট বৃদ্ধি পায়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর আদা ক্যান্সার ও হার্টের সমস্যা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

২। আপনি যদি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগে থাকেন তাহলে আদ হতে পারে আপনার সবথেকে কার্যকরী প্রাকৃতিক ওষুধ। এজন্য প্রতিদিন ২ কাপ পানিতে এক টুকরো আদা দিয়ে ভালোভাবে ফুটিয়ে চায়ের মতো বানিয়ে পান করুন। এতে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা একদম দূর হয় যাবে। এছাড়াও পেট ব্যাথা হলে আদা কুচি লবন দিয়ে খেয়ে নিন। এতে পেট ব্যাথা একদম কমে যাবে। একই সাথে আদা রুচিবর্ধক। খেতে অরুচি থাকলে খাওয়ার আগে নিয়মিত আদা কুচি খাবেন।তাহলে খাওয়ার রুচি বাড়বে। ধমনীতে প্লাক জমে রক্ত প্রবাহ বন্ধের সমস্যাকে বলা হয় অথেরোস্ক্লেরোসিস। নিয়মিত আদা খেলে এই মারাত্মক সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি মেলে।

৩। ঠাণ্ডা লেগে গলা বসে যাওয়া কিংবা খুশখুশে কাঁশি কমাতে আদার জুড়ি নেই। সকাল-বিকাল এক চামচ আদার রস খেলে খুশখুশে কাশি ও ঠাণ্ডার প্রকোপ থেকে সহজেই মুক্তি মেলে। এছাড়াও আদা চা খেলেও অনেক উপকার হয়। একই সাথে মধুর সঙ্গে আদার রস মাথাব্যথা ও কফ দূর করতে দারূন কাজ করে। বমিভাব হলে আদার সাথে সামান্য লবণ মিশিয়ে খেয়ে নিন। বমিভাব সাথে সাথে কমে যাবে। প্রতিদিন মাত্র ১ ইঞ্চি পরিমানের আদা কুচি খাওয়া অভ্যাস আমাদের সাইনাসের সমস্যা প্রতিরোধে  করে।

৪। আদা খেলে আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়। প্রতিদিন সকালে এক কাপ আদা-চা পান করলে গ্যাস কিংবা অ্যাসিডিটির সমস্যা একদম কমে যায়। এছাড়াও আদা খুবই ভালো ব্যাথা নাশক। আদার রস পান করলে বিভিন্ন ধরনের বাতের ব্যথা ও জয়েন্ট পেইন থেকে খুব সহজেই নিস্তার মেলে। একই সাথে আদার অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা দূর করতে বিশেষ ভাবে কার্যকরী। এছাড়াও উষ্ণ গরম পানিতে আদার তেল মিশিয়ে গোসল করলে মাংসপেশীর ব্যথা দূর হয়।

৫। মেয়েদের পিরিয়ডের সময় পেটে ক্র্যাম্পের সমস্যায় আদা অনেক উপকার করে। এজন্য আদা থেঁতো করে সামান্য লবণ দিয়ে খেলে উপকার মেলে। এছাড়াও আদা আমাদের খাবারের পুষ্টি দেহে সঠিকভাবে শোষণ করার ক্ষমতা বাড়ায়। আদা খেলে আমাদের টিস্যু বেশি এনার্জি ব্যবহার করে এবং এতে বেশি ক্যালরি বার্ন হয়। ফলে অতিরিক্ত মেদ কমে আমাদের ওজন কমতে শুরু করে। আদার অ্যান্টিএইজিং উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা দেহের টক্সিন দূর করে এবং দেহে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে ত্বকে বয়সের ছাপ প্রতিরোধ করে।

এছাড়াও আদায় থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট আমাদের শরীরের রোগ-জীবাণুকে ধ্বংস করে। জ্বর জ্বর ভাব, গলা ব্যথা ও মাথাব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। একই সাথে আমাদের মাইগ্রেনের ব্যথা ও ডায়াবেটিস জনিত কিডনির জটিলতা দূর করে আদা।

উপরে