ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৮
পেয়ারা

অনন্য পুষ্টিগুণে ভরপুর পেয়ারা

20Fours Desk | আপডেট : ২২ অক্টোবর, ২০১৮ ১৪:৪৭
অনন্য পুষ্টিগুণে ভরপুর পেয়ারা

পেয়ারা আমাদের দেশে ব্যাপক জনপ্রিয় একটি ফল।এর হালকা মিষ্টি স্বাদ এবং অনন্য পুষ্টিগুনের জন্য এটি আমাদের কাছে অনেক প্রিয় একটি ফল। যদিও এটি একটি মৌসুমি ফলে তবু এখন সবসময় এই ফল পাওয়া যায়। দেখতে খুবই সাধারণ এই ফলটি অসধারণ পুষ্টিগুণে ভরপুর। পেয়ারায় আছে উপস্থিত ভিটামিন সি, লাইকোপেন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা আমাদের মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত শরীরের প্রতিটি অংশকে সুস্থ এবং সুন্দর রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। একই সাথে এতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম এবং আরও অন্যান্য খনিজ উপাদান আমাদের শরীর যাতে খাবারে উপস্থিত নানাবিধ পুষ্টিকর উপাদান ঠিক মতো গ্রহণ করতে পারে, সেদিকেও খেয়াল রাখে।আরও নানাভাবে এই ফলটি আমাদের অনেক উপকার করে থাকে। আসুন আজ জেনে নিই পেয়ারায় পুষ্টিগুন এবং নিয়মিত পেয়ারা খেলে আমাদের কী কী উপকার হয়ে থাকে।

পেয়ারার পুষ্টি উপাদানঃ

নানা রকম উপকারী সব পুষ্টিগুণ এবং খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ পেয়ারা আমাদের নানা ভাবে অনেক উপকার করে থাকে।ভিটামিন সি, ক্যারোটিনয়েডস, ফোলেট, পটাশিয়াম, আঁশ এবং ক্যালসিয়াম রয়েছে। পেয়ারায় কমলার চেয়ে ৪ গুণ ভিটামিন সি আছে। এতে পর্যাপ্ত আয়রনও রয়েছে। এগুলো দেহের ভিটামিন ও খনিজের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখে।দেখা গেছে প্রতি ১০০ গ্রাম পেয়ারায় প্রায়পানি ৮৬.১০ গ্রাম, প্রোটিন ০.৮৫ গ্রাম, ফাইবার ৫.৪ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ৩ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ ৭০০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ৭৬০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি ৩২০ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৫১ কিলোক্যালরি রয়েছে। এছাড়াও এতে ম্যাঙ্গানিজ, সেলিনিয়াম,ম্যাগনেসিয়ামের আছে। একই সাথে পেয়ারায় বীজে ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬, পলিয়ান সেচুরেটেড, ফ্যাটি এসিডের মত উপকারী সব উপাদান রয়েছে।

নিয়মিত পেয়ারা খাওয়ার উপকারীতাঃ

১। পেয়ারায় আছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট। ফলে এই ফল আমাদের শরীরে প্রবেশ করা মাত্র দেহের ভেতরে থাকা সব ক্ষতিকর জীবাণুদের মেরে ফেলতে শুরু করে।ফলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়।একই সাথে পেয়ারায় থাকা পটাশিয়াম আমাদের উচ্চ কিংবা নিন্ম উভয় রক্ত চাপই নিয়ন্ত্রনে রাখে।

২। পেয়ারায় আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ। আর এই ভিটামিন এ আমাদের দৃষ্টিশক্তির ভীষণ উপকারী। এজন্য নিয়মিত পেয়ারা খেলে আমাদের দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে।একই সাথে এটি আমাদের চোখের ছানি, ম্যাকুলার ডিজেনারেশন এবং গ্লুকোমার মতো রোগও দূরে থাকে।একই সাথে এতে থাকা ভিটামিন সি আমাদের দাঁত এবং মুখের জন্য অনেক উপকারী।এটি আমাদের দাঁত এবং দাঁতের মাড়ির সুস্থ্যতায় ভীষণ সাহায্য করে।

৩। পেয়ারায় থাকা ভিটামিন সি আমাদের ত্বকের জন্যও অনেক উপকারী। প্রতিদিন একটা করে পেয়ারা খেলে আমাদের ত্বকের ব্রণ দূর হয়ে যায়। একই সাথে এটি ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখতে ভীষণ কার্যকরী। এছাড়াও পেয়ারার খোসা পেস্ট করে এর সাথে ডিমের কুসুম মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে ত্বকে ব্যবহার করলে খুব অল্প দিনেই ত্বক উজ্জ্বল এবং ফর্সা হয়ে উঠে।এজন্য এই প্যাকটি লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করে ফেলুন। সপ্তাহে ২-৩ বার ব্যবহার করলেই দেখেবেন এর জাদু।

৪। পেয়ারায় উপস্থিত ভিটামিন বি৩ এবং বি৬ মস্তিষ্কে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের ব্রেনের কগনেটিভ ফাংশন, অর্থাৎ স্মৃতিশক্তি, বুদ্ধি এবং মনোযোগের উন্নতি ঘটে।এছাড়াও পেয়ারায় আছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার।যা আমাদের রক্তে শর্করার মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। একই সাথে এই ফলটি যেহেতু গ্লাইকেমিক ইনডেক্সে একেবারে নিচের দিকের, তাই পেয়েরা খেলে ব্লাড সুগার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা একদমই থাকে না। তাই ডায়াবেটিক রোগীরা নিশ্চিন্তে এই ফলটি খেতে পারেন।

৫। পেয়ারায় আছে লাইকোপেন, কুয়েরসেটিন, ভিটামিন সি এবং পলিফেনল। যা আমাদের শরীরে জমে থাকা ক্ষতিকর টক্সিক উপাদান বের করে দেয়। একই সাথে এই ফল আমাদের শরীরের ভেতরে ক্যান্সার সেল জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা অনেক কমায়।বিশেষ করে ব্রেস্ট এবং প্রস্টেট ক্যান্সার রোধে পেয়ারার অনেক উপকারী।এছাড়াও শরীরে সোডিয়াম এবং পটাশিয়াম লেভেল ঠিক রাখার মাধ্যমে ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভূমিকা রাখে পেয়ারা। শুধু তাই নয়, ট্রাইগ্লিসারাইড এবং ক্ষতিকর কোলেস্টরলের মাত্রা কমিয়ে আমাদের হার্টকে সুস্থ রাখতে পেয়ারা অনেক উপকারী।

এছাড়াও পেয়ারায় থাকা ম্যাগনেসিয়াম আমাদের নার্ভের চাপ কমানোর মাধ্যমে আমাদের স্ট্রেস কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।এছাড়াও এতে থাকা ফাইবার আমাদের কনস্টিপেশনের মতো সমস্যাও দূরে রাখতে ভূমিকা রাখে। একই সাথে ফাইবার আমাদের পেট ভরিয়ে রেখে ক্ষুদা কমায়। ফলে মেদ কমাতে এটি দারূন কার্যকরী।

উপরে