ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৮
আনারসের পুষ্টিগুণ এবং উপকারীতা

আনারসের পুষ্টিগুণ এবং উপকারীতা

20Fours Desk | আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৪:৫৭
আনারসের পুষ্টিগুণ এবং উপকারীতা

আনারস আমাদের সবার পরিচিত একটি ফল। অত্যান্ত রসালো এই ফলটি খেতে দারুণ সুস্বাদু। এটি মিষ্টি বা হালকা টক স্বাদের হয়ে থাকে। সাধারণত গ্রীষ্মের শেষে বা বর্ষায় এই ফলটি পাওয়া যায়। আমাদের দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের এই ফলের ব্যাপক চাষ হয়। এর আছে বেশ সুন্দর একটি ঘ্রাণ। আমরা মোটামুটি সবাই আনারস খেতে পছন্দ করি । কিন্তু আমরা কজনই বা জানি এই ফলে কি কি পুষ্টি উপাদান রয়েছে এবং এই ফলটি খেলে আমাদের কি কি উপকার হতে পারে। আসুন আজ জেনে নিই আনারসের পুষ্টিগুণ এবং উপকারীতা সম্পর্কে।

পুষ্টিগুণঃ

এ ফলটিতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, সি, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং পটাশিয়াম রয়েছে। এ ছাড়া এ ফলটিতে প্রচুর পরিমাণ আঁশ ও ক্যালোরি রয়েছে। এটি কলস্টেরল ও চর্বিমুক্ত। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ফলের জুড়ি নেই।

উপকারীতাঃ

১. আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং সি।ভিটামিন সি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আমাদের দাঁত,দাঁতের মাড়ি এবং ত্বকের জন্য ভীষণ উপকারী। এটি আমাদের মুখের স্ক্যাভি রোগ প্রতিরোধ করে।ভিটামিন এ চোখের দৃষ্টি বাড়াতে সাহায্য করে।আনারসে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন।যা আমদের চোখের “ম্যাক্যুলার ডিগ্রেডেশন” রোগ হওয়া থেকে আমাদের রক্ষা করে। এই রোগ হলে চোখের রেটিনা নষ্ট হয়ে যায় এবং আস্তে আস্তে চোখ অন্ধ হয়ে যায়।

২. আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ম্যাংগানিজ। ক্যালসিয়াম হাড়ের গঠনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং ম্যাংগানিজ হাড়কে করে তোলে মজবুত। এতে থাকা পটাসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামের মত উপকারী খনিজ উপাদান আমাদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।এই সকল উপাদান আমাদের দেহের পুষ্টির অভাব পূরণে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

৩. আনারস আমাদের হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে বেশ কার্যকরী। আনারসে রয়েছে ব্রোমেলিন যা আমাদের হজমশক্তিকে উন্নত করতে সাহায্য করে।থাকা ফাইবার বা খাদ্য আঁশ  আমাদের হজম শক্তি বাড়িয়ে থাকে । এর ফলে গ্যাস বা অ্যাসিডিটির পরীমাণ কমে যায়।বদহজম বা পেট ফাঁপা সমস্যায় আনারসের রসের সাথে সামান্য লবণ ও গোলমরিচ গুঁড়া মিশিয়ে খেলে আরোগ্য হয়।

৪. গলাব্যথা, সোর থ্রোট, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং ব্রংকাইটিসে আনারসের রস ওষুধের বিকল্প হিসাবে কাজ করে।আনারসে ব্রোমোলিম নামক এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ থাকায় তা কফ বা মিউকাসকে তরল করে এবং হজমে সহায়তা করে।এক প্রকার এনজাইম যা প্রদাহনাশক ও মিউকোলহিটিক হিসাবে কাজ করে।সর্দি-কাশিতে আনারস খাওয়ার পরামর্শ দেন না এমন লোক খুব কমই আছেন।

৫।আনারসে প্রচুর ফাইবার রয়েছে এবং অনেক কম ফ্যাট। আনারস আমাদের ওজন কমানোয় বেশ সাহায্য করে।আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি থাকে যা আমাদের শক্তির যোগান দেয়। এতে থাকা প্রোটিন ত্বকের মৃত কোষ দূর করে, ত্বককে কুঁচকে যাওয়া থেকে বাঁচায়। এছাড়া ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর হয়, ব্রণ কমে যায় এবং ত্বক উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

৬। আনারসে আছে উচ্চ মাত্রায় পানিতে দ্রবনীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন-সি ।যা আমাদের দেহকে ফ্রি-রেডিকেল থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। ফলে ক্যান্সার এবং হৃদরোগের মত মারাত্মক রোগ দেহে বাসা বাঁধতে বাধাগ্রস্থ হয়।

উপরে