ঢাকা, সোমবার, ২৫ মার্চ, ২০১৯
বাচ্চাকে ঘুম থেকে ওঠানো

কান্নাকাটি ছাড়াই বাচ্চাকে ঘুম থেকে ওঠানোর কৌশল

20Fours Desk | আপডেট : ১৪ মার্চ, ২০১৯ ১১:২৩
কান্নাকাটি ছাড়াই বাচ্চাকে ঘুম থেকে ওঠানোর কৌশল

প্রতিটা সন্তান বাবা মায়ের কাছে অতি প্রিয় হয়ে থাকে কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় সকাল বেলা ঘুম ভাঙ্গাতে গেলে তারা বড্ড বিরক্ত হয়ে যায় কেননা সকাল বেলা অনেক প্রায় প্রতিটা বাচ্চাই ঘুম থেকে উঠতে ঝামেলা করে থাকে অনেকেই আবার কান্নাকাটি ও করে থাকে। তাই এই সময় বাবা মায়ের উচিত কিছু কৌশল অবলম্বন করা যাতে করে কোনো রকম কান্নাকাটি ছাড়াই ঘুম থেকে ওঠানো যায়। আর তাই আপনাদের জন্যই আজকের লেখাতে থাকছে এমনি কিছু কৌশল। প্রথমত  কোনো শিশু সকালে দ্রুত ঘুম থেকে উঠে পড়ে। কেউ আবার দেরি করে উঠতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। আপনার শিশু কেমন, তা বুঝুন এবং তা মেনে নিয়েই সকালের রুটিন ঠিক করুন।

চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক কান্নাকাটি ছাড়াই বাচ্চাকে ঘুম থেকে ওঠানোর কৌশল গুলোঃ

(১) বড়দের তুলনায় বাচ্চাদের বেশি ঘুম দরকার হয় (অন্তত ১০ ঘণ্টা)। এ কারণে তাদেরকে রাত্রে দ্রুত ঘুম পাড়াতে হবে। তাহলেই সকাল সকাল বাচ্চাকে ঘুম থেকে ওঠাতে পারবেন আপনি। এ ছাড়া ঘুমাতে যাওয়ার আগে ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার, ঘরে বেশি আলো, খাওয়া-দাওয়া এসব শিশুর ঘুমকে প্রভাবিত করে। ভেবে দেখুন এসবের কারণে তার ঘুম কম হচ্ছে কি না। এছাড়াও বাচ্চার ঘুম ভাঙানোর পরেও তাকে কিছু সময় বিছানায় গড়াগড়ি করতে দিন। এতে ঘুম পুরোপুরি কেটে যাবে এবং তাকে বিছানা থেকে ওঠানো সহজ হবে।

(২) বাচ্চার প্রিয় খাবারটি রান্না বা বেক করতে পারেন। খাবারের মজাদার সুবাসে সে ঘুম থেকে উঠে পড়বে এবং তাকে বিছানা থেকে ওঠানো সহজ হবে অথবা রান্না, কাপড় ধোয়া, ঘর মোছা বা ভ্যাকুয়াম, এসব কাজ সকালেই করুন। এসবের শব্দে বাচ্চার ঘুম কেটে যাবে। সময়মতো তাকে বিছানা থেকে ওঠাতে পারবেন।

(৩) অনেক বাড়িতে সবাই একটিই অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহার করে অথবা যে যার ফোনে অ্যালার্ম দিয়ে রাখে। বাচ্চাকে একটি সুন্দর অ্যালার্ম ঘড়ি কিনে দিন এবং তা কী করে ব্যবহার করতে হয় তা শিখিয়ে দিন। এতে সে সকালে অ্যালার্মের শব্দে ঘুম থেকে উঠতে উৎসাহ পাবে। এছাড়া  সকালে উঠে স্কুলে যাওয়ার সময় বই পাওয়া যাচ্ছে না, দুটো মোজার একটি নেই, পরিষ্কার রুমাল নেই এসব সমস্যায় পড়েন অনেকেই। এসব জিনিস আগের রাতেই গুছিয়ে রাখলে বাচ্চা সকালে চটপট রেডি হতে পারে। এতে তার সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার উৎসাহও বাড়ে।

(৪) অ্যাপার্টমেন্টের অনেক ঘরই এমন হয় যেখানে তেমন একটা আলো-বাতাস আসে না। তেমন ঘরে বাচ্চাকে রাখবেন না। তার ঘরে যেন জানালা দিয়ে বেশ আলো আসে তার দিকে খেয়াল রাখুন। সকালের আলোতেই তার ঘুম ভাঙবে সহজে।

(৫) ঘুম থেকে দেরি করে উঠলে যে তার স্কুলে যেতে দেরি হবে, এ ব্যাপারটি বাচ্চাকে বুঝতে দিন। সে ঘুম থেকে কোনোদিন দেরি করে উঠলে হয়তো ব্রেকফাস্টে মজার খাবার খেতে পারবে না অথবা স্কুল বা গানের ক্লাসে যেতে দেরি হবে। এসব ফলাফল ভোগ করলে সে নিজেই বুঝে যাবে সকালে ঘুম থেকে ওঠাটা জরুরি।

তবে হ্যাঁ বাচ্চা ঘুম থেকে উঠতে না চাইলে অনেকেই রাগ করে তাকে বকাবকি করতে থাকেন। এতে দুটি ক্ষতি হয়। সে রাগ করে বিছানাতেই পড়ে থাকে। আর দিনের পর দিন বকা শুনতে শুনতে একসময় সে অভ্যস্ত হয়ে যায়। তাই এটি হতে বিরত থাকুন।

উপরে