ঢাকা, শনিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৯
নবজাতকের যত্ন

নবজাতকের যত্নে কিছু ভুল ধারণা

20fours Desk | আপডেট : ২২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৯:২২
নবজাতকের যত্নে কিছু ভুল ধারণা

পরিবারে যখন একটি নবজাতকের জন্ম হয় তখন সবাই অনেক খুশি হয়, এবং তাকে নিয়ে সবাই অনেক ব্যস্ত হয়ে যায়। আর নবজাতক জন্মের পর বাবা - মা তার যত্ন করার জন্য অনেকের কাছে অনেক ধরনের পরামর্শ নিয়ে থাকেন। কিন্তু আমাদের সমাজে এখনো নবজাতককে নিয়ে অনেক প্রচলিত যত্ন আছে যেগুলো ভুল। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণা ও আমাদের এইসব ধারণার সাথে কিছু অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। চলুন আজকে আমরা জেনে নিই, নবজাতকের যত্নে কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা গুলোঃ

১। নবজাতকের যত্নে তেল মাখানোঃ

অতি প্রাচীনকাল থেকেই  নবজাতককে তেল মাখানোর নিয়ম চলেই আসছে। তবে এখন অনেকেই নবজাতকের শরীরে তেল মাখাতে চায় না। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, তেল মাখানো নবজাতকের জন্য খুবই উপকারী একটা পদ্ধতি। হালকা তেল দিয়ে শিশুর শরীর মেসেজ করে দিলে শিশুর শরীরে রক্ত চলাচল ভালো হয় এবং শিশুর ঘুম অনেক ভালো হয়।

২। দাঁত ওঠার সময় নবজাতকের জ্বর হয়;

একটি শিশু জন্মের পর তার একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর স্বাভাবিক শরীরবৃত্তিয় প্রক্রিয়ার কারনে দাঁত উঠবে। সাধারণত ৬ মাস থেকে ২৪ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর দাঁত উঠতে পারে। কিন্তু অনেকেই মনে করেন এই সময়টায় শিশুর দাঁত উঠার ফলে জ্বর হবার সম্ভাবনা থাকে। এই ধারণা একেবারেই ভুল। দাঁত উঠার সাথে এই জ্বরের কোন সম্পর্ক নেই। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকার ফলে বিভিন্ন কারণে জ্বর হয়। তাই শিশুর জ্বর হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে ও প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

৩। শিশুকে অনেকক্ষণ কোলে রাখলে শিশু বিরক্ত হয়ঃ

একটি শিশু জন্মের সাথে সাথেই কথা বলতে পারে না। তখন তার যোগাযোগের ভাষা বা ইঙ্গিত হয় কান্না। দেখা যায় শিশু মায়ের কোলে থাকার সময়ে অনেক সময় কাঁদে। তার মানে যে শিশু কোলে থেকে বিরক্ত হয়ে কাঁদছে এমন কিন্তু না। শিশু কাঁদলে কেন কাঁদছে সেটা বোঝার চেষ্টা করতে হবে ও সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

৪।  শিশুর চোখে কাজল ও সুরমা দেয়ার চিন্তা ভাবনাঃ

বাচ্চাদের চোখে কাজল লাগানো খুবই পুরনো একটা রীতি। কারন প্রাচীন কালের ধারণা যে সুরমা অথবা কাজল ব্যবহারে শিশুর দৃষ্টিশক্তি বাড়ে। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানে বলা হয়েছে, এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। কারণ শিশুর চোখ ও ত্বক অনেক স্পর্শকাতর হয়। তাই শিশুর চোখে যেকোন ধরণের প্রসাধনী ব্যবহার করা ক্ষতিকর। সুরমা ও কাজল ব্যবহার করলে শিশুর চোখে ও ত্বকে ইনফেকশন হতে পারে। এবং শিশুর চোখে অ্যালার্জি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৫। শিশুর ত্বকে অতিরিক্ত পাউডার ব্যবহার ক্ষতিকর;

শিশুর ত্বকের যত্নে পাউডার মাখা একটা অতি সাধারণ বিষয়। কিন্তু অতিরিক্ত পাউডার মাখানো ক্ষতিকর। শিশু জন্মের প্রথম কয়েক সপ্তাহ পাউডার মাখানো যাবে না। এতে শিশুর শরীরের প্রাকৃতিক তেলের স্তর নষ্ট হয়ে যায়। শিশুর জন্য আলাদা বেবি পাউডার আছে, সীমিত পরিমাণে তা মাখা যেতে পারে। কিন্তু শিশুকে বড়দের ঘামাচি পাউডার মাখা যাবেই না। শিশুর গলায় ও মুখে পাউডার মাখলে নিশ্বাসের সাথে নাকে গিয়ে শিশুর শ্বাস কষ্ট হতে পারে। গরমে ঘেমে গেলে ত্বক স্যাঁতস্যাঁতে না হওয়ার জন্য শরীর ভালোভাবে মুছে খুবই সীমিত পরিমাণে পাউডার উচিত।

৬। বোতলজাত দুধ শিশুর জন্য অনেক উপকারী ভূল ধারণাঃ

শিশু জন্মের প্রথম ৬ মাস শিশুর জন্য মায়ের দুধই একমাত্র উৎকৃষ্ট খাদ্য, এতে কোন সন্দেহ নাই। এই সময়টাতে শিশুর সকল ধরণের চাহিদা মায়ের দুধই পূরণ করতে পারে। কিন্তু কোন ধরণের সমস্যার জন্য যদি কখনো কখনো মা বুকের দুধ খাওয়াতে অপারগ হয় কেবল তখই শিশুকে বোতলজাত দুধ খাওয়ানো যাবে। সেক্ষেত্রেও ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। বুকের দুধের পাশাপাশি বোতলজাত দুধ শিশুকে না খাওয়ানোই উত্তম।

৭। নবজাতককে ঘরের বাইরে নেয়া যাবে নাঃ

অনেকের ধারণা মাঝেই আছে। বিশেষ করে গ্রামে এই ধারণা প্রবল। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে নবজাতককে ঘরের বাইরে ফ্রেশ বাতাসের সান্নিধ্যে নেয়া জরুরী। এতে নবজাতকের রোগ প্রতিরোগ ক্ষমতা বাড়ে। তাছাড়া বিশেষজ্ঞরা নবজাতককে সূর্য্যের মিষ্টি আলোয় দেয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। যদি আবহাওয়া খুবই খারাপ ধরণের না হয়, তাহলে নবজাতকে বাইরে নেয়া যেতে পারে।

 ৮। জন্মের পর শিশুর দৃষ্টিশক্তি থাকে নাঃ

অনেকের ধারণা, শিশু জন্মের পর নবজাতক চোখে দেখে না, এটা একটা অদ্ভুত ধরণের ভুল ধারণা। চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, জন্মের সাথে সাথেই শিশু চোখে দেখতে পায়। হয়তো দৃষ্টিটা ঝাঁপসা কিংবা স্পষ্ট থাকে না। কিন্তু শিশু জন্মের পর থেকেই দেখতে পায়।

উপরে