ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০১৯
অন্তঃসত্ত্বা নারীর ব্যাক পেইন

অন্তঃসত্ত্বা নারীর ব্যাক পেইন প্রতিকারে যা করবেন

20fours Desk | আপডেট : ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২২:৩০
অন্তঃসত্ত্বা নারীর ব্যাক পেইন প্রতিকারে যা করবেন

অন্তঃসত্ত্বায় ব্যাক পেইন বা পিঠব্যথা হওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে। কিছু কিছু মায়েরা গর্ভধারণের শুরু থেকেই এতে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে যেসব মায়েদের ওজন বেশি থাকে বা গর্ভধারণের আগে থেকেই যাদের ব্যাক পেইনের সমস্যা থাকে তাদের ক্ষেত্রে অন্তঃসত্ত্বায় এর ঝুঁকি বেশি থাকে। গর্ভাবস্থায় নারীদের মাজা বা কোমর ব্যথা একটি পরিচিত সমস্যা। প্রতি চার জনে তিন জন মহিলা  এই সমস্যায় ভুগে থাকে।  এটি পেটের মাংশ পেশীকে দুর্বল করে দেয় এবং পুরো ভারটাই মেরুদণ্ডের উপর চাপ তৈরি করে। এর ফলে গর্ভবতী নারীরা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করলে মাজায় ব্যথা অনুভব করেন। অন্তঃসত্ত্বা নারীদের কোনো না কোনো সময় অন্তঃসত্ত্বায় প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ব্যাক পেইন এর মোকাবেলা করতে হয়। কিন্তু কিছু উপায় রয়েছে যা আপনাকে ও আপনার সন্তানকে কোনো কষ্ট না দিয়ে ব্যথা উপশম করতে সাহায্য করবে।আজকের লেখাতে থাকছে আপনাদের জন্য অন্তঃসত্ত্বা নারীর ব্যাক পেইন প্রতিকারে যা করবেন সেই ব্যাপারে কিছু তথ্য।

চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক অন্তঃসত্ত্বা নারীর ব্যাক পেইন প্রতিকারে যা করবেনঃ

(১) ব্যাক পেইন হলে আমারা সাধারণত বিছানায় শুয়ে থাকি তবে খুব বেশি সময় শুয়ে থাকা উচিত নয়। শুয়ে থাকলে ব্যাক পেইনের তেমন কোন উপশম হয় না বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা আরও বেড়ে যেতে পারে।

(২) অন্তঃসত্ত্বায় ব্যাক পেইন বা পিঠব্যথা দূর করার সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো ব্যায়াম। নিজের পেশিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি শরীরের সর্বস্তরের সুস্থতা খুব সহজেই শিশুকে বহন করার শক্তি জোগায়। তখন ওজন বৃদ্ধির পরও আপনি খুব সহজেই এবং আরামে শিশুকে বহন করতে পারবেন। অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য শ্রেষ্ঠ ব্যায়াম হলো হাঁটা, সাঁতার কাটা এবং আসতে আসতে সাইকেল চালান। আপনি আপনার ডাক্তারের সঙ্গে আলোচনা করে আপনার জন্য যে ব্যায়ামটি ভালো হয়, সে ব্যায়ামটি করা শুরু করেন।

(৩) রিলাক্সেশনের টেকনিকগুলো জেনে নিন। প্রফেশনাল কাউকে দিয়ে মাসাজ করাতে পারেন। মাসাজের ফলে কিছুটা আরামবোধ করতে পারেন। বিশেষ করে ঘুমানোর আগে হালকা মাসাজ ঘুমে সহায়তা করতে পারে। যদি প্রফেশনাল কাউকে পাওয়া না যায় তবে আপনি আপনার সঙ্গীর সহায়তা নিতে পারেন। আপনার মাথা, ঘাড়, গলা, পিঠ, হাত এবং পায়ে আলতো মাসাজ এ সময় অনেক কাজে দিতে পারে।

(৪) অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় স্ট্রেচিং ব্যায়াম করলে ব্যাক পেইন থেকে স্বস্তি মিলতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যাতে এ ধরনের ব্যায়াম করার সময় তা দ্রুত করা না হয় বা স্ট্রেচিং বেশি করা না হয়। এর ফলে হিতে বিপরীত হতে পারে। ব্যায়ামের সময় সব সময় নিজের শরীরের কথা শোনার চেষ্টা করুন। যখনি মনে হবে অসুবিধা হচ্ছে বা ব্যথা হচ্ছে তখন ব্যায়াম বন্ধ করুন।

(৫) আপনার ব্যথার স্থানে গরম ও ঠাণ্ডা সেঁক দিতে পারেন। এতে আপনি কিছু সময়ের জন্য ব্যথা থেকে পরিত্রাণ পাবেন। তবে অবশ্যই আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন। প্রথমে দুই-তিন দিন আপনার ব্যথাযুক্ত স্থানে ২০ মিনিট করে ঠাণ্ডা কম্প্রেস প্রদান করুন। এরপরে আবার কয়েক দিন একই স্থানে গরম কম্প্রেস প্রদান করুন। কিন্তু খেয়াল রাখবেন, গর্ভাবস্থায় কখনও পেটে ঠাণ্ডা বা গরম কম্প্রেস করবেন না।

(৫) সোজা হয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করুন। অন্তঃসত্ত্বা মায়েরা সাধারণত ঝুঁকে থাকেন। এতে মেরুদণ্ডের ওপর আরও চাপ পড়ে। যদি সোজা হয়ে দাঁড়ানোটা এ সময় একটু কঠিন হবে তারপরও চেষ্টা করুন যাতে দাঁড়ানোর সময় ঘাড় যাতে পেছনের দিকে থাকে। বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে না থাকার চেষ্টা করুন। দাঁড়িয়ে থাকতে হলে কিছুক্ষণ পরপর বসে বিশ্রাম নিন।

এছাড়াও অন্তঃসত্ত্বায় ভারি জিনিস আলগানো উচিত নয়। যদি নিচ থেকে কোনো জিনিস তুলতে হয় তবে ঝুঁকে না তুলে আগে হাঁটু ভেঙে বসে তারপর তুলুন। বাজারের ব্যাগ বা কিছু বহন করতে হলে দুই হাতে সমান ভর নেয়ার চেষ্টা করুন। একটি ব্যাগে সব জিনিশ না নিয়ে দুটি ব্যাগে সমান ওজন নিয়ে বহন করুন। এক হাতে ওজন বেশি নিলে শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখা কষ্টকর হয় এবং তাতে মেরুদণ্ডে চাপ পড়ে।

উপরে