ঘুরে আসুন রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী বলদা গার্ডেন | 20fours
logo
আপডেট : ১ নভেম্বর, ২০১৮ ১৫:০৩
বলদা গার্ডেন
ঘুরে আসুন রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী বলদা গার্ডেন
20fours Desk

ঘুরে আসুন রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী বলদা গার্ডেন

বলধা গার্ডেন ঢাকার ওয়ারী এলাকায় অবস্থিত একটি উদ্ভিদ উদ্যান। এই উদ্যানে প্রচুর দূর্লভ গাছপালা রয়েছে। তদানীন্তন ঢাকা জেলা, বর্তমান গাজীপুর জেলার বলধার জমিদার নরেন্দ্রনারায়ণ রায় চৌধুরী ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে বলধা গার্ডেনের সূচনা করেন। তিনি দুটি উদ্যান তৈরি করেন। প্রথম উদ্যানটির নাম রাখেন "সাইকী"। পরবর্তিতে তৈরি করা হয় দ্বিতীয় উদ্যান "সিবলী"। নরেন্দ্রনারায়ণ রায় চৌধুরীর মৃত্যুর পর কোনো এক সময়ে এ দুটি উদ্যানকে সম্মিলিতভাবে বলধা গার্ডেন নামে আখ্যায়িত করা হতে থাকে। ৩.৩৮ একর জায়গার উপর এই উদ্যান নির্মাণ করা হয়েছে। নরেন্দ্রনারায়ণ এখানে একটি পারিবারিক জাদুঘরও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
বিখ্যাত এই গার্ডেনের মালিক ছিলেন জমিদার নারায়ণ চন্দ্র চৌধুরী। উনিশ শতকের শেষের দিকে এটি ছিল বলধার সেই জমিদারের বাগানবাড়ি। যা তখন ঢাকার উচ্চবিত্তদের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। নিয়মিত সেখানে বসতো গান বাজনার আসর। ধারণা করা হয় বলধা নাম থেকেই বলধা গার্ডেনের নামকরণ হয়েছে।

জমিদার নারায়ণ চন্দ্র চৌধুরী পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে নানারকম ফুলগাছ ও অনান্য উদ্ভিদ এনে রোপন করেছেন নিজের তৈরী এ গার্ডেনটিতে। বলধা গার্ডেন প্রকৃতপক্ষে ফুল ও উদ্ভিদের একটি মিউজিয়াম। তবে সত্যিকারের একটি মিউজিয়ামও ছিল বলধা গার্ডেনে। তাতে কয়েকটি ধাতব মূর্তি ছিল। বলধা গার্ডেনে যেমন দেশ বিদেশের বিভিন্ন উদ্ভিদ রয়েছে ঠিক তেমনি দেশ বিদেশের খ্যাতিমান লোকেরা বলধা গার্ডেন দেখতে আসতেন। এখনো বলধা গার্ডেন নিয়ে ঢাকাবাসীর আগ্রহের কমতি নেই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও বলধা গার্ডেন পরিদর্শন করেছিলেন। তখন তিনি এ গার্ডেনের বহু বিদেশী ফুলের বাংলা নামকরণ করেছিলেন।
এই বাগানে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ৮শ প্রজাতির ১৮ হাজার উদ্ভিদ সংরক্ষণ করা আছে। বাগানে দেখা যাবে দুস্প্রাপ্য প্রজাতির গাছ শারদমলিকা, লতাজবা, ক্যানাংগা, কনক সুধা, কন্টক লতা, প্যাপিরাস, ধূপগাছ, শ্বেত শিমুল, হিং, উভারিয়া, রুপেলিয়া, কর্ডিয়া, অঞ্জন, গড়শিঙ্গা, অক্রকারপাস, পোর্ট ল্যান্ডিয়া, ওলিয়া ইত্যাদি।

বাগানের ভিতরে শঙ্খনদ-পুকুরের চারপাশে বসে আড্ডা দিতে পারেন সানন্দে।  সান বাঁধানো  পুকুরপাড়ে পাকাসিঁড়ি নেমে গেছে পানি পর্যন্ত। এখানে বেড়াতে আসেন প্রকৃতি প্রেমিক তরুণ-তরুণীরাই।

এখানে রয়েছে ‘জয় হাউজ’ নামে একটি দোতলা বাড়ি। পুরনো কাঠামোতে দোতলায় উঠার সিঁড়িটা লোহার, সামনে তিন দিকে খোলা বারান্দা। সেখানে প্রকৃতির নির্মল বাতাসে একটু আরাম করে নিতে পারেন। আর এই জয় হাউজে বসেই বলধা গার্ডেনের ক্যামেলিয়া ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘ক্যামেলিয়া’।

সপ্তাহের প্রতিদিনই সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা। তবে দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত চলে মধ্যাহ্ন বিরতি।
প্রবেশ মূল্য: প্রাপ্তবয়স্ক ১০ টাকা। অপ্রাপ্তবয়স্ক ৪ টাকা। শিক্ষার্থী ও গবেষণাকারী ৫ টাকা।

যেভাবে যাবেন:
আপনি যেখান থেকেই আসুন না কেনো। সব চাইতে ভালো হয় মতিঝিল হয়ে টিকাটুলি চলে গেলে। সেখান থেকে রিকশা নিয়ে বা যে কাউকে জিজ্ঞাসা করলেই আপনাকে বলধা গার্ডেনের পথ দেখিয়ে দেবে।
এছাড়া আপনি পুরান ঢাকা বা গুলিস্থান হয়েও যেতে পারেবেন। এই স্থানগুলো থেকে আপনি অতি সহজেই রিকশা নিয়ে যেতে পারবেন।