ঢাকা, শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৯
ঢাকা প্রকাশ

ঢাকা প্রকাশ

ঢাকায় প্রকাশিত প্রথম বাংলা পত্রিকা 'ঢাকা প্রকাশ'।
| আপডেট : ১ নভেম্বর, ২০১৭ ০৯:২১
ঢাকা প্রকাশ

ঢাকায় প্রকাশিত প্রথম বাংলা পত্রিকা 'ঢাকা প্রকাশ'। ১৮৬১ সালের ৭ মার্চ বাবুবাজারের ‘বাঙ্গালা যন্ত্র’ থেকে এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়। পত্রিকার মোটো ছিল সংস্কৃতি ভাষায় 'সিদ্ধিঃ সাধ্যে সমামস্ত্ত'। যার অর্থ সাধ্য অনুযায়ী সিদ্ধি লাভ হোক।
এটি ছিল সাপ্তাহিক পত্রিকা। প্রথম বছর পত্রিকা রয়েল আকারে দু’ফর্মা বা আট পৃষ্ঠার ছিল। ডাকমাশুলসহ এর বার্ষিক মূল্য ছিল পাঁচ টাকা।

পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠার বাঁ দিকে থাকতো বিজ্ঞাপন। ডান দিকে মাঝে মাঝে থাকতো সম্পাদকীয় বা গুরুত্বপূর্ণ কোন খবর বা বিশেষ কোন বিষয়ের ওপর পত্রিকার নিজস্ব মতামত। এরপর ছিল ‘সম্বাদাবলী’ [বা সংবাদাবলী]। এই বিভাগে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা থেকে বা নিজেদের সংগৃহীত সংবাদ ছাপা হতো। এ ছাড়া নিয়মিত ছাপা হতো চিঠিপত্র। সমকালীন সামাজিক ইতিহাসের জন্য এই বিভাগটি গুরুত্বপূর্ণ। পত্রিকার তৃতীয় পৃষ্ঠায় কখনও বা শেষ পৃষ্ঠায় ছাপা হতো পাঠকদের চিঠিপত্র বা মতামত।

ঢাকা প্রকাশের প্রথম সম্পাদক ছিলেন কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার। পরিচালকগণের মধ্যে প্রধান ছিলেন ব্রজসুন্দর মিত্র, দীনবন্ধু মৌলিক, ঈশ্বরচন্দ্র বসু, চন্দ্রকান্ত বসু প্রমুখ। কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের পর দীননাথ সেনের পরিচালনায় পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এ সময় বৃহস্পতিবারের পরিবর্তে শুক্রবারে পত্রিকা প্রকাশিত হতে থাকে। দীননাথ চতুর্থ বর্ষের ২৩ থেকে ৩৬ সংখ্যা পর্যন্ত পরিচালনা করেন। পরে সে ভার অর্পিত হয় জগন্নাথ অগ্নিহোত্রী ও গোবিন্দপ্রসাদ রায়ের ওপর। পঞ্চম বর্ষ থেকে শুক্রবারের বদলে ঢাকা প্রকাশ রোববারে প্রকাশিত হতে শুরু করে।

ঢাকা প্রকাশ প্রথম প্রকাশিত হয় ব্রাহ্মদের মুখপত্র হিসেবে; কিন্তু বিভিন্ন সময়ে মালিকানা বদলের সঙ্গে সঙ্গে পত্রিকার দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে যায়। তাই দেখা যায় পত্রিকাটি কখনও ব্রাহ্মদের, কখনওবা রক্ষণশীল হিন্দুদের সমর্থন করেছে। রাজনৈতিক বিষয়ে পত্রিকাটি সব সময় মধ্যপন্থা অবলম্বন করত এবং শাসক ও শাসিতের মধ্যে শান্তি স্থাপনের চেষ্টা করত। এর ফলে বঙ্গভঙ্গ এবং স্বদেশী আন্দোলনের সময় পত্রিকাটিকে অনেক বিপদের সম্মুখীন হতে হয়।

ঢাকা প্রকাশ একটি প্রভাবশালী পত্রিকা ছিল, যার মতামতকে সরকার গুরুত্ব দিত। এ সময় ঢাকা থেকে প্রকাশিত অন্যান্য পত্রিকার মধ্যে ছিল ঢাকা নিউজ, হিন্দু হিতৈষিণী, পল্লী বিজ্ঞান ইত্যাদি। উনিশ শতকে পূর্ববঙ্গ থেকে যেসব সংবাদপত্র ও সাময়িকী প্রকাশিত হতো সেসবের মধ্যে প্রায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঢাকা প্রকাশের সংবাদ এবং মতামতকেই রিপোর্ট অন দ্য নেটিভ পেপারস হিসেবে গুরুত্বের সঙ্গে প্রণিধান হিসেবে উল্লেখ করত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে ঢাকাপ্রকাশ-এর বেশ কিছু সংখ্যা সংরক্ষিত আছে। সেখানে রাখা সর্বশেষ প্রকাশিত সংখ্যাটি হলো ১২-০৪-১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দের। তখন সম্পাদক ছিলেন আবদুর রশীদ খান। প্রকাশিত হতো ৫৯/৩ কিতাব মঞ্জিল, ইসলামপুর থেকে। অবশ্য বাবুবাজার থেকে ঢাকাপ্রকাশ ইসলামপুরের ১৬ নম্বর বাড়িতে এসেছিল ১২৯১ সনের দিকে। তখন মাসিক ৫০ টাকা বেতনে এর সম্পাদক ছিলেন তখনকার স্বনামখ্যাত কবি দীনেশচরণ বসু। ওই বছর যাদবচন্দ্র সেনের কাছ থেকে বাঙ্গালা মুদ্রণযন্ত্রসহ পত্রিকাটির মালিকানা কিনে নিয়েছিলেন মানিকগঞ্জের হিন্দু তালুকদার গুরুগঙ্গা আইচ চৌধুরী।

উনিশ শতকের পূর্ববঙ্গের পত্রিকায় প্রায় ক্ষেত্রেই সম্পাদকের নাম নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হতো না। ফলে, কখন কে পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন তা নির্ণয় করা অসম্ভব হয়ে ওঠে। ‘ঢাকা প্রকাশ’-এর বেলায়ও সে কথা প্রযোজ্য। তবে পূর্ণচন্দ্রের প্রবন্ধের সাহায্যে আমরা ‘ঢাকা প্রকাশ’-এর সম্পাদকদের নাম জানতে পারি।

যেমন, প্রথম সম্পাদক কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের কথাই ধরা যাক। পত্রিকার চতুর্থ বর্ষ পর্যন্ত পত্রিকায় তাঁর নামই দেখা যায়। কিন্তু ব্রজেন্দ্রনাথ লিখেছেন—“সম্পাদকের দায়িত্ব মজুমদার মহাশয়ের উপর ছিলনা। ‘ঢাকা প্রকাশের’ চতুর্থ বৎসর ২২ সংখ্যা পর্যন্ত তাঁহার নাম ‘প্রকাশক’ রূপেই পাওয়া যায়। যিনি সম্পাদক ছিলেন তিনি ‘ঢাকা প্রকাশের’ দ্বিতীয় বর্ষের শেষাশেষি কর্ম্মচ্যূত হন। ‘সোম প্রকাশ’ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্যের যথার্থতা প্রমাণ করেছেন। কিন্তু আবার এও দেখা গেছে পত্রিকা হেড কম্পোজিটরের তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত হচ্ছে। তবে, অন্যান্য সূত্র অনুযায়ী, প্রথম চার বছর কৃষ্ণচন্দ্রই ছিলেন সম্পাদক। চতুর্থ বছরে তিনি যোগ দিয়েছিলেন ঢাকার আরেকটি সংবাদপত্র ‘বিজ্ঞাপনী’তে পঞ্চাশ টাকা বেতনে।

মুনতাসীর মামুন তাঁর ঢাকাপ্রকাশ নিয়ে গবেষণাগ্রন্থ ‘ঢাকাপ্রকাশ ও পূর্ববঙ্গের সমাজ ১৮৬৩-৬৪’তে উল্লেখ করেছেন, মফস্বল বলে বিবেচিত হলেও ঢাকাকে কেন্দ্র করে উনিশ শতকের ষাট ও সত্তর দশকে একটি সামাজিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে উঠেছিল। ঢাকা সে সময় আবার পুনরুজ্জীবিত হয় এবং কলকাতার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। ঢাকার সেই পুনরুজ্জীবনের সমাজচিত্রই রয়েছে ঢাকাপ্রকাশ-এ। আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত মুক্তচিন্তার অধিকারী ও সংস্কারবাদী ব্রাহ্মসমাজের নেতাদের হাতে পত্রিকাটির আত্মপ্রকাশ ঘটায় এটি শিক্ষা বিশেষত স্ত্রীশিক্ষা, যোগাযোগ, কৃষি—এসব ক্ষেত্রের সংবাদে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত মতামত প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া নীল বিদ্রোহের সময় বিদ্রোহীদের পক্ষাবলম্বন করেছিল পত্রিকাটি। সব মিলিয়ে ঢাকাপ্রকাশ ঢাকার গৌরবেরই উজ্জ্বল অংশ হয়ে আছে।

প্রথম প্রকাশের সময় পত্রিকার প্রচারসংখ্যা ছিল ২৫০; উনিশ শতকের নববইয়ের দশকে হিন্দু পুনরুত্থানবাদীদের আন্দোলনের সময় এ সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৫০০০। এ থেকে তৎকালে পত্রিকাটির জনপ্রিয়তা প্রমাণিত হয়। ঢাকা প্রকাশ প্রায় ১০০ বছর টিকে ছিল; পূর্ববঙ্গের আর কোনো পত্রিকার আয়ুষ্কাল এত দীর্ঘ ছিল না। ঢাকাসহ পূর্ববঙ্গের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস ঢাকা প্রকাশ ছাড়া রচনা করা সম্ভব নয়। ঢাকাপ্রকাশ-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য রয়েছে মুনতাসীর মামুনের ঢাকা: স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী বইয়ে।

কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের পর ‘ঢাকা প্রকাশ’-এর সম্পাদক হয়েছিলেন দীননাথ সেন। খ্যাতির মধ্যগগনে তখনও তিনি পৌঁছান নি বটে, কিন্তু একজন ব্রাহ্মকর্মী হিসেবে ঢাকা শহরে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বেশ প্রভাবশালী। চতুর্থ বর্ষের ২৩ থেকে ৩৬ সংখ্যা পর্যন্ত তিনি সম্পাদনা করেছিলেন। তাঁর সময় ‘ঢাকা প্রকাশ’ বৃহস্পতিবারের বদলে শুক্রবারে প্রকাশিত হতে থাকে এবং পঞ্চম বর্ষ থেকে প্রকাশিত হতে শুরু করে রোববার থেকে।

দীননাথের পর ‘ঢাকা প্রকাশ’-এর সম্পাদনার ভার গ্রহণ করেছিলেন ঢাকার আরেকজন ব্রাহ্মকর্মী গোবিন্দ প্রসাদ রায় [মাঝখানে জগন্নাথ অগ্নিহোত্রীর তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত হয়েছিলো পত্রিকা]। পত্রিকার মালিকানাও হাতবদল হয়েছিলো তখন। গোবিন্দ প্রসাদ প্রথমে ছিলেন ‘ঢাকা প্রকাশ’-এর বেতনভোগী কর্মচারী। পত্রিকা পঞ্চম বর্ষে পদার্পণ করলে তিনিই এর স্বত্ব কিনে নিয়েছিলেন। [খুব সম্ভব বাঙ্গালা যন্ত্রসহ] মহারাণী ভিক্টোরিয়া যখন ‘ভারতেশ্বরী’ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন তখন এ উপলক্ষে দিল্লীতে যে দরবার [উৎসব] হয়েছিলো তাতে পূর্ববঙ্গের একমাত্র পত্রিকা সম্পাদক হিসেবে তিনি আমন্ত্রিত হয়েছিলেন।
কিছুদিন পত্রিকা চালাবার পর গোবিন্দ প্রসাদ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং তখন পত্রিকার সম্পাদনা ভার গ্রহণ করেছিলেন ঢাকা ব্রাহ্ম বিদ্যালয়ের শিক্ষক অনাথ বন্ধু মৌলিক। দু’বছর সম্পাদনা করেছিলেন তিনি। তারপর গোবিন্দ প্রসাদ সুস্থ হয়ে আবার সম্পাদনা ভার গ্রহণ করেছিলেন এবং সহকারী হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন পণ্ডিত বৈকুণ্ঠচন্দ্র নাথকে।

১২৮৯ সনে গোবিন্দ প্রসাদের মৃত্যু হলে, ‘ঢাকা প্রকাশ’ ও ‘বাঙ্গালা যন্ত্র’-এর দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তাঁর জামাতা যাদবচন্দ্র সেন। দু’বছর চালিয়েছিলেন তিনি পত্রিকা। কিন্তু প্রতিযোগিতায় না পেরে তিনি “মানিকগঞ্জের অধীনে চারিপাড়া গ্রামবাসী তালুকদার বাবু গুরুগঙ্গা আইচ চৌধুরীর” কাছে প্রেস ও ‘ঢাকা প্রকাশ’-এর স্বত্ব বিক্রি করে দিয়েছিলেন। ১২৯১ সালে তিন হাজার চারশ পঞ্চাশ টাকার বিনিময়ে গুরুগঙ্গা ‘বাঙ্গালা যন্ত্র’ ও ‘ঢাকা প্রকাশ’-এর স্বত্ব ক্রয় করেছিলেন।

১২৯২ সনের পূজার পর তিনি পঞ্চাশ টাকা বেতনে পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত করেছিলেন পূর্ববঙ্গের তৎকালীন খ্যাতনামা কবি দিনেশচরণ বসুকে। এ সময় পত্রিকার কার্য্যালয় স্থানান্তরিত হয়েছিলো বাবু বাজার থেকে ইসলামপুরে ১৬ নং বাড়িতে। তবে, দিনেশচরণ সম্পাদক ছিলেন মাত্র দু’মাস। এরপর ব্যক্তিগত কারণে তিনি পদত্যাগ করেছিলেন এবং তখন স্বয়ং গুরুগঙ্গা নিজে ভার গ্রহণ করেছিলেন পত্রিকার। এবং এ সময়ই বদল ঘটে পত্রিকার দৃষ্টিভঙ্গীর। কারণ গুরুগঙ্গা ছিলেন গোঁড়া হিন্দু।
১২৯৩ সনের আষাঢ় মাসে তিনি ঘোষণা করেছিলেন—

“এইভাবে কার্য্যারম্ভ করার পর যাদব ও বৈকুণ্ঠ প্রভৃতি সুবুদ্ধিগণ আমার দুর্নাম রটাইয়া ঢাকা প্রকাশের হিতৈষী দলকে শত্রু করিয়া তুলিলেন। বৈকুণ্ঠবাবু শশীবাবুর সাহায্যে ঢাকা গেজেটের সৃষ্টি করিয়া ঢাকা প্রকাশের সমস্ত গ্রাহককে প্রায় বিনামূল্যে যোগাইতে ও তাহাতে আমাকে অশিক্ষিত বলিয়া ঘোষণা করিতে লাগিলেন। ঢাকা প্রকাশের বিরুদ্ধে যেরূপ ষড়যন্ত্র হইয়াছিল, মানুষের ক্ষমতার সেরূপ ষড়যন্ত্র হইতে রক্ষা পাওয়া অসম্ভব। কিন্তু ঢাকা প্রকাশ দ্বারা বিশেষ কার্য্য সাধনের জন্যই যেন স্বয়ং বিধাতা আমা দ্বারা এই দুঃসময়ে ঢাকা প্রকাশকে রক্ষা করিয়াছিলেন। ”

চৈত্র ১২৯১ থেকে জ্যৈষ্ঠ ১৩০৮—এ ষোল বছর ঢাকা প্রকাশ সম্পাদনা করেছিলেন গুরুগঙ্গা আইচ। শেষের দিকে, ঢাকা প্রকাশের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করেছিলেন ঢাকা পৌরসভার সচিব সার্কিস, ঢাকা শহরের প্রভাবশালী নাগরিক রূপলাল সাহা ও ‘শাহিন মেডিকেল হলের স্বত্বাধিকারী’। গুরুগঙ্গা প্রথম দুটি মামলা আপোষে মিটিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু শেষটি মেটাতে পারেন নি এবং সে মামলায় তাঁর এক মাসের জেল হয়েছিলো। এসব ও আর্থিক কারণে ১৩০৮ সালে তিনি পত্রিকার স্বত্ব বিক্রি করে দিয়েছিলেন।

১৩০৮ সালের আষাঢ় মাসে “বিক্রমপুরের ব্রাহ্মণ খাঁ নিবাসী শ্রীযুক্ত মুকুন্দ বিহারী চক্রবর্তী বি.এ. এবং স্বাধীন ত্রিপুরার পরলোক প্রস্থিত মহারাজ নীরদচন্দ্র মাণিক্য বাহাদুরের অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রণা সচিব বাবু রাধারমণ ঘোষ বি.এ.” ঢাকা প্রকাশের স্বত্ব ক্রয় করেছিলেন।

পত্রিকার পটভূমিকা হিসেবে পর্ণেন্দু চক্রবর্তী একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন। একবার সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত ‘বেঙ্গলী’ পত্রিকার অফিসে গেছেন রাধারমণ। সেখানে কথা প্রসঙ্গে সুরেন্দ্রনাথ বলেছিলেন—“তুমি যাহাই বল না কেন, যেখান হইতে এই ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগেও পড়িবার যোগ্য একখানি সংবাদপত্র প্রকাশিত হইতে পারে নাই, সেদেশের শিক্ষা-দীক্ষার গৌরব করা যাইতে পারে না। ” এ কথায় আহত হয়েছিলেন রাধারমণ। এর পরই তিনি স্বত্ব ক্রয় করেছিলেন পত্রিকার।
তাঁদের সময়ও ‘ঢাকা প্রকাশ’-এর নীতি তেমন পরিবর্ত্তিত হয় নি। ‘ঢাকা প্রকাশ’ পূর্ব্ববৎ সনাতন ধর্ম্মের সেবাতেই নিযুক্ত ছিল এবং “রাজনৈতিক বিষয়ে মধ্যম পন্থাই অনুসরণ করিয়া আসিতেছে। এবং শাসক ও শাসিতের মধ্যে সম্প্রীতি সংস্থাপনে চেষ্টা করিতেছে। এ নিমিত্ত বঙ্গভঙ্গ ও স্বদেশী আন্দোলনের সময় তাঁকে নানাবিধ বিপদের সম্মুখীন হইতে হইয়াছিল। ”

পত্রিকা কেনার কিছুদিন পর মুকুন্দ বাবুই সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছিলেন। সম্পাদক ছিলেন তিনি নিজে। ১৩০৯ থেকে পত্রিকার আকার বদলে গিয়েছিলো—ডাবল ক্রাউন। দীর্ঘ ত্রিশ বছর মুকুন্দ বাবুর সহকারী হিসেবে যারা যুক্ত ছিলেন পত্রিকার সঙ্গে তারা হলেন পণ্ডিত রাজকুমার চক্রবর্তী, পণ্ডিত প্রিয়নাথ বিদ্যাভূষণ, নিশিকান্ত ঘোষ, গিরিজাকান্ত ঘোষ, উমেশচন্দ্র বসু, হরিহর গঙ্গোপাধ্যায়, মধুসূদন চৌধুরী এবং পূর্ণচন্দ্র ভট্টাচার্য্য।


তথ্যসূত্র : বাংলাপিডিয়া এবং কালের কন্ঠ, মুনতাসীর মামুন এর প্রবন্ধ “ঢাকার প্রথম বাংলা সংবাদপত্র” (১০ জানুয়ারি, ২০১৭)

উপরে