ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮
টাইপ টু ডায়াবেটিস

যেসব অভ্যাস বাড়িয়ে দিচ্ছে টাইপ টু ডায়াবেটিসের আশঙ্কা

20fours Desk | আপডেট : ২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৯:৫১
যেসব অভ্যাস বাড়িয়ে দিচ্ছে টাইপ টু ডায়াবেটিসের আশঙ্কা

সবচেয়ে জটিল রোগ গুলোর মধ্যে একটি হলো ডায়াবেটিস। এটি এমন একটি রোগ যা একবার হলে এথেকে আর নিস্তার পাওয়া যায় না। তবে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, যা অনেক কষ্টসাধ্য। আর ডায়াবেটিস মানেই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কমে যাওয়া এবং একই সাথে আরও অনেকগুলো রোগে ভোগা। আর সবচেয়ে মজার বিষয় হলো ৯৫ শতাংশ ডায়াবেটিস রোগী ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আগে ভোগেন টাইপ টু ডায়াবেটিসে। আর এই টাইপ টু ডায়াবেটিস একটু বেশি বয়সে এসে ডায়াবেটিসে হয়ে যায়৷ আর টাইপ টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ায় মূল কারণ হলো শুয়ে-বসে থাকা, বেশি ওজন, বেশি খাওয়া, মানসিক চাপ ইত্যাদির মত কিছু বদ অভ্যাস। আর আমরা যদি এই বদ অভ্যাস গুলো পরিহার করতে পারি তাহলেই কিন্তু এই টাইপ টু ডায়াবেটিস রোগ থেকে রেহাই পাব। টাইপ টু ডায়াবেটিস এর লক্ষণগুলো নিম্নরূপঃ

টাইপ টু ডায়াবেটিসের লক্ষণসমূহ :

টাইপ টু ডায়াবেটিসের লক্ষণসমুহ খুব ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। লক্ষণগুলো প্রথমদিকে খুব প্রকটভাবে বুঝা যায় না তাই বেশিরভাগ মানুষ প্রথমদিকে এ লক্ষণগুলোকে উপেক্ষা করে থাকে। প্রথম থেকেই যদি এই লক্ষণগুলো বুঝে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তবে টাইপ টু ডায়বেটিস এর হাত থেকে নিজেকে কিছুটা হলেও রক্ষা করা যেতে পারে।

– ঘন ঘন ক্ষুধা পাওয়া
– অল্প কাজ করেই ক্লান্ত হয়ে যাওয়া
– শরীরে এনার্জীর অভাব বোধ করা
– প্রচুর পরিমাণে এবং ঘন ঘন পানির পিপাসা পাওয়া
– ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হওয়া
– হঠাৎ করে ওজন খুব বেড়ে যাওয়া বা খুব কমে যাওয়া
– চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া
– জিভ শুকিয়ে যাওয়া
– গা চুলকানো

সময়ের সাথে সাথে অন্যান্য যে লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়:

– শরীরে কালো কালো দাগ
– ঘন ঘন ইস্ট (Yeast) ইনফেকশন
– পা ব্যথা
– কেটে যাওয়া ক্ষত শুকোতে বেশি সময় নেয়া।

আসুন জেনে নিই কোন কোন অভ্যাসগুলোর জন্য আমরা টাইপ টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে থাকি তা সম্পর্কে।

যেসব বদ অভ্যাস আমাদের টাইপ টু ডায়াবেটিসের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়ঃ

১। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার ফলে আমাদের শরীরে  ইনসুলিনের কার্যকারিতা অনেক কমে যায়। আর এতেই আমাদের রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যায়৷ আর এটি যদি প্রায়ই সময় হয়ে থাকে তাহলে টাইপ টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। এজন্য  সঠিক সময়ে খাওয়া দাওয়া করা খুওবই জরুরী।

২। কোমল পানীয়, কর্ন সিরাপ বা এই ধরনের পানীয় নিয়মিত খেলে আমাদের রক্তে ফ্রুকটোজের পরিমাণ বেড়ে যায়৷ আর এর ফলেই আমাদের ওজন বাড়তে শুরু করে। আর ওজন বাড়া মানেই টাইপ টু ডায়াবেটিস। বোতলজাত ফলের জুস কিংবা প্যাকেটের ফলের রসেও থাকে চিনি৷ আর এসব নিয়মিত খেলে রক্তে সুগারের মাত্রা বাড়তে পারে৷ কমতে পারে ইনসুলিনের কার্যকারিতা৷

৩। টাইপ টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ হলো  রাত জেগে কাজ করা বা নাইট ডিউটি৷ আসলে রাত জেগে কাজ করার ফলে আমাদের শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ কমে যাইয়।আর এর ফলে ইনসুলিন ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। আর এতেই দেখা দিতে পারে টাইপ টু ডায়াবেটিস।

৪। উচ্চ রক্তচাপ জনিত সমস্যা থাকলে এ রগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। তাই উচ্চ রক্রচাপ থাকলে তা নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে এবং একই সাথে চা-কফি কম খেতে হবে৷ কারণ রক্তচাপ বেশি হলে ডায়াবিটিসের আশঙ্কা এমনিই বাড়ে, তার উপর কফি খাওয়ার ফলে গ্লুকোজের বিপাক ক্রিয়ায় গোলমাল হয়ে তা আরও বাড়বে৷

৫। রক্তচাপ বাড়ানোর মূলে ধূমপানের বিরাট অবদান৷ তার হাত ধরে ডায়াবিটিস হওয়ার ও তার জটিলতা বাড়ার আশঙ্কা থাকে৷ কাজেই এই অভ্যাসটি ত্যাগ করুন৷ এছাড়াও সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন ৩০ থেকে ৪০ মিনিট জোরে হাঁটুন, দৌড়োন বা সাঁতার কাটুন। এতে মানসিক চাপ ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমে আসবে৷ ফলে টাইপ টু ডায়াবেটিস থেকে মিলবে মুক্তি।

৬। নিয়মিত এক ঘণ্টা টানা টিভি দেখলে ডায়াবিটিসের আশঙ্কা বাড়ে প্রায় ৪ শতাংশ৷ তাই দীর্ঘসময় টানা টিভি সেটের সামনে বসে থাকা একদম যাবে না। একই সাথে  মশগুল থাকলে ওজন ও ভুঁড়ি বাড়ার হাত ধরে আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়৷

উপরে