ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৮
কোলেস্টরল নিয়ন্ত্রণ

যেসব খাবার আমাদের কোলেস্টরল নিয়ন্ত্রণ করবে।

20fours Desk | আপডেট : ৪ নভেম্বর, ২০১৮ ১২:২৭
যেসব খাবার আমাদের কোলেস্টরল নিয়ন্ত্রণ করবে।

দিন দিন আমাদের দেশে হার্টের রোগীর সংখা যেন লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলছে। আর সেই সাথা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মত সমস্যা। এ থেকে বাদ পড়ছে না মহিলা কিংবা তরুণরা। এমকি ইদানিং ছোট বাচ্চারাও এর শিকার হচ্ছে। আর এর অন্যতম কারন হলো আমাদের রক্তে খারাপ কোলেস্টরলের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া। এক গবেষণায় দেখা গেছে এই দশকে ৩০ বছর বয়সিদের মধ্যে হাই কোলেস্টেরলের মতো সমস্যায় ভুগছে অনেকেই। আর এর কারন হলো আমাদের খাদ্যাভ্যাস কিংবা অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। আমাদের শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করলে আমাদের ব্রেনের ভেতরে টক্সিক বা বিষাক্ত উপাদানের পরিমাণ বাড়তে থাকে। আর এর প্রভাবে একের পর এক ব্রেন সেলের মৃত্যু ঘটতে থাকে। আর এর পরিনাম হলো মৃত্যু। তাই আমাদের উচিত এই কোলেস্টরলকে একদম নিয়ন্ত্রণে রাখা। কিন্তু এখন কথা হলো কিভাবে একে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এটা কিন্তু কঠিন কিছু না। আমরা চাইলেই আমাদের কোলেস্টরল নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। কিভাবে? আসুন জেনে নিই কোলেস্টরল আসলে কি এবং কি খাবারের মাধ্যমে একে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

কোলেস্টরল কিঃ

কোলেস্টেরল এক ধরনের চর্বি। এটি কয়েক ধরনের হয়ে থাকে ট্রাইগ্লিসারাইড, এলডিএল, এইচডিএল এবং টোটাল কোলেস্টরল। এর মধ্যে একটা হলো উপকারী। আর তিনটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এই কোলেস্টেরল জমা হয় রক্তনালিতে। জমা হতে হতে রক্তনালির স্বাভাবিক যে রক্তস্রোত তা বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

কোলেস্টরল নিয়ন্ত্রন করার জন্য যা যা খেতে হবেঃ

১। বাদামঃ

কোলেস্টেরল কমাতে যেসব খাবার সবথেকে বেশি ভুমিকা রাখে তার মধ্যে বাদাম অন্যতম। বাদামের আছে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার। যা আমাদের কোলেস্টরল কমাতে সবচেয়ে বেশি উপকারি। ফাইবার ম্যাজিকের মত কোলেস্টরল কমিয়ে থাকে। প্রতিদিন মাত্র ৫০ গ্রাম বাদাম আমাদের রক্তে মিশে থাকা কোলেস্টরল কমিয়ে থাকে। তাই আমাদের উচিত প্রতিদিন একটু করে বাদাম খাওয়া। তা যে বাদামই হোক না কেন। প্রতিদিন একটু করে কাঠবাদাম বা কাজুবাদাম খেলে আমরা যেমন থাকব কোলেস্টরল ফ্রি, তেমনি একদম রোগমুক্ত। তবে আমাদের একথা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে, অতিরিক্ত বাদাম খাওয়া কিন্তু আবার শরীরের জন্য ভালো নয়। তাই বেশি করে বাদাম না খেয়ে পরিমিত বাদাম খাব।

২। মাছঃ

মাছে আমাদের সবার অনেক প্রিয় একটি খাবার। এজন্যই বলা হয়ে থাকে মেছে ভাতে বাঙ্গালি। নিয়মিত মাছ খেলে আমাদের শরীরের অনেক উপকার হয়ে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মাছে আমাদের রক্তে মিশে থাকা খারাপ কোলেস্টরল বা এলডিএল একদম কমে যায়। আসলে মাছে আছে ওমেগা থ্রী ফ্যাটি অ্যাসিড এবং আরও অনেক উপকারি উপাদান। যা আমাদের রক্তে মিশে থাকা এই খারাপ কোলেস্টরল কমাতে সবচেয়ে বেশি ভুমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয়, মাছে খেলে আমাদের হার্টের কার্যক্ষমতা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। তাই আমাদের উচিত নিয়মিত মাছ খাওয়া।

৩। ধনে বীজ বা ধনিয়াঃ

কোলেস্টেরল কমাতে একটি বেশ কার্যকরী প্রাকৃতিক ওষুধ হলো ধনে বীজ বা ধনিয়া। আমাদের রান্নাঘরের এই ছোট্ট উপাদানটি আমাদের কোলেস্টরল কমাতে দারুণ ভুমিকা পালন করে। এজন্য যারা এই সমস্যায় ভুগে থাকেন তারা প্রতিদিন একগ্লাস পানিতে মাত্র একচামচ ধনিয়া গুঁড়া মিশিয়ে খেয়ে ফেলুন। আর এতেই আমাদের রক্তে মিশে থাকা খারাপ কোলেস্টরল একদম কমতে শুরু করবে। এটি যে শুধু কোলেস্টরল কমায় তাই কিন্তু না, বরং আমাদের ত্বক এবং চুলের জন্য এই পানীয়টি মারাত্নক উপকারি। তাই প্রতিদিন এটি খেতে একদমই ভুলবেন না।

৪। আমলকিঃ

আমলকিকে বলা হয় সবচেয়ে উপকারি ফল। আমাদের নানারকম শারীরিক সমস্যা দূর করতে আমলকির তুলনা নেই। বিশেষ করে আমাদের রক্তে মিশে থাকা খারাপ কোলেস্টরল কমাতে আমলকির ভুমিকা অপরিসীম। কেউ যদি সকালেও খালি পেটে কয়েকটি আমলকি খেয়ে থাকে তাহলে তার রক্তে মিশে থাকা কোলেস্টরল কমতে শুরু করবে। এছাড়াও শুকনো আমলকির পাউডার এক গ্লাস হালকা কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে খেলেও সমান উপকার পাওয়া যায়। তাই যারা কোলেস্টরল জনিত সমস্যায় ভুগছেন তারা এটি খেতে একদমই ভুলবেন না যেন!

৫। ডালঃ

ফাইবার সমৃদ্ধ এই প্রাকৃতিক উপাদানটিকে যদি প্রতিদিনের খাবার তালিকায় থাকে তাহলে আমাদের রক্তে মিশে থাকা কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার একদমই আশঙ্কাই থাকে না। দেখা গেছে প্রতিদিন মাত্র ২৫ গ্রাম ডাল খেলে আমাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা প্রায় ৫-৬ শতাংশ হারে কমতে শুরু করে।আর আমরা সবাই জানি যে, কোলেস্টেরলের মাত্রা যত কমে, তত হার্টের কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।

উপরে