ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৮
প্যাকেটজাত জুস

বাহিরের প্যাকেটজাত জুস খাচ্ছেন? জানেন তো এর ফলে কি হতে পারে?

20fours Desk | আপডেট : ১ নভেম্বর, ২০১৮ ১৩:০৬
বাহিরের প্যাকেটজাত জুস খাচ্ছেন? জানেন তো এর ফলে কি হতে পারে?

ফলের জুস আমরা সবাই খেতে ভালোবাসি। সুস্থ্য এবং ফিট থাকতে প্রতিদিন একগ্লাস ফলের জুস পান করা উচিত। বর্তমানে আমাদের ব্যস্তটা এতটা বেড়ে গেছে যে, তাজা ফল দিয়ে জুস বানানোর সময় আমাদের একদমই নেই। আর তাই দোকানে কিনতে পাওয়া প্যাকেট কিংবা বোতলজাত জুসই আমাদের ভরসা। আমরা না জেনে শুনেই এসব জুস খেয়ে যাচ্ছি। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছি কি এসব প্যাকেটজাত জুস আমাদের জন্য কতটা স্বাস্থ্যকর বা ক্ষতিকর। দোকানে কিনতে পাওয়া বিভিন্ন কোম্পানির এসব জুস কিন্তু আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য একদমই ভালো নয়। এসব জুস তৈরিতে ব্যবহৃত হয় নানা রাসায়ানিক উপাদান, যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর। আসুন জেনে নিই বাহিরের এসব প্যাকেটজাত জুস খেলে আমাদের কি কি ক্ষতি হতে পারে।

বাহিরের প্যাকেটজাত জুসের ক্ষতিকর দিকঃ   

১। দোকানে কিনতে পাওয়া বিভিন্ন ফলের জুসের প্যাকেটে এত বেশি চিনি থাকে যে ফলের কোনও গুণই আর অবশিষ্ট থাকে না। যদি কেউ প্রতিদিন ২৫০ মিলিলিটার বাহিরের ফলের জুস খায় তাহলে তার মোটা হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়ে যায়। আর আমরা সকলেই জানি অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি মানেই টাইপ টু ডায়বেটিস, হাইব্লাড প্রেশার, স্ট্রোক, ক্যান্সারের মত মরণব্যাধি আমাদের শরীরে বাসা বাঁধে। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে এসব জুস আমাদের জন্য কতটা ক্ষতিকর।

২। প্যাকেটে পাওয়া এসব ফলের জুস যেই প্রক্রিয়ায় তৈরি এরফলে এতে কোনো উপকারি ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে না। ফলে এসবের ভিটামিন এবং মিনারেলও নষ্ট হয়ে যায়। একই সাথে এসব জুসে রঙ আনার জন্য পলি-ইথিলিন গ্লাইকোল নামের যে রাসায়ানিক উপাদানটি ব্যাবহার করা হয় তা ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য দায়ী। চিনির পরিবর্তে যে এসপার্টেম নামের যে কেমিকেল ব্যবহার করা হয় তা আমাদের দেহে প্রায় ৯২ রকমের ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

৩।  দোকানে কিনতে পাওয়া বিভিন্ন ফলের জুসে আসলে ফলই থাকে না। এতে থাকে শুধুমাত্র ফলের ফ্লেবার। আর এসব তৈরি করা হয় বিভিন্ন রকমের আর্টিফিশিয়াল রং এবং কেমিকেল দিয়ে। ফলে এগুলো আমাদের শরীরের জন্য মারাত্বক ক্ষতি করে থাকে। এসব জুস খেলে পেটের বিভিন্ন সমস্যা হইয়ে থাকে। একই সাথে এসব জুস খেলে আমাদের কিডনির মারাত্বক ক্ষতি হয়ে থাকে।

৪। প্যাকেটে পাওয়া এসব ফলের জুস বানানোর সময় এগুলো এতবেশি ফিল্টার করা হয় যে, এ থেকে সকল অ্যান্টি-অক্সিজেন বের হয়ে যায়। আর আমরা জানি অ্যান্টি-অক্সিজেন আমাদের শরীরের জন্য কতটা উপকারি। এর অভাবে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যায়।

৫। দৈনিক মাত্র ১০০ মিলিলিটার বা এর চেয়ে বেশি প্যাকেটের ফলের জুস পান করেন আমাদের মেটাবলিক সিনড্রোম বেড়ে যায় প্রায় ৪৪ শতাংশ। আর আমাদের মেটাবলিক সিনড্রোম বেড়ে গেলে আমাদের ডায়েবেটিস, হৃদরোগের ঝুঁকি যেমন বাড়ে তেমনি অকালে বুড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে অনেক।

উপরে