ঢাকা, সোমবার, ২৫ মার্চ, ২০১৯
প্রাণায়ম যোগাসন

সুস্থ থাকতে প্রাণায়ম যোগাসন

20Fours Desk | আপডেট : ১৫ মার্চ, ২০১৯ ০৯:৪৭
সুস্থ থাকতে প্রাণায়ম যোগাসন

প্রাণায়াম মূলত শ্বাস-প্রশ্বাসের নিয়ন্ত্রণ। প্রাণের আয়াম অর্থাৎ প্রাণের দীর্ঘতাই প্রাণায়াম।সঠিক নিয়মে এই শ্বাস গ্রহণ, ধারণ এবং বর্জন বা ত্যাগকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রাণায়াম করা হয়। যোগশাস্ত্রে নাকের সাহায্যে ফুসফুসে বাতাস পুরণ করে সংরক্ষণ এবং ফুসফুস থেকে বাতাস বের দেওয়ার বিশেষ নিয়মবদ্ধ প্রক্রিয়ার দ্বারা প্রাণায়াম করা হয়।  শরীরের ভিতরে বায়ুর প্রবেশ ও নিষ্ক্রমণের প্রক্রিয়ার দ্বারা, বায়ুর বিস্তার ঘটে, তার সংযম করার প্রক্রিয়াই হলো প্রাণায়াম। এই সংযমের প্রক্রিয়া পাঁচটি ধাপে সম্পন্ন হয়। এই চারটি ধাপ হলো— পূরক, অন্তর কুম্ভক, রেচক ও বাহ্য কুম্ভক। প্রতিদিন সকালে কিছুটা সময় প্রাণায়মের পিছেন ব্যয় করার পরামর্শ দিয়ে যোগ বিশেষজ্ঞরা। আর আজকের লেখাতে থাকছে আপনাদের জন্য সুস্থ থাকতে প্রাণায়ম যোগাসন এর উপকারীতাগুলো।

চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক সুস্থ থাকতে প্রাণায়ম যোগাসন এর উপকারীতা গুলোঃ

(১) বিশেষজ্ঞদের মতে নিয়মিত প্রাণায়ম করা শুরু করলে মস্তিষ্কের অন্দরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে যে তার প্রভাবে স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ কমতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মানসিক অবসাদের প্রকোপ যেমন কমে, তেমনি স্ট্রেসের খপ্পর থেকেও দ্রুত মুক্তি মেলে।

(২)  নিয়মিত প্রাণায়াম করার অভ্যাস করলে ধীরে ধীরে ব্রেণ পাওয়ার বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে স্মৃতিশক্তির উন্নতি ঘটার পাশাপাশি বুদ্ধির জোরও বাড়ে। শুধু তাই নয়, মানসিক চাপ কমাতেও এই যোগাসনটি দারুনভাবে সাহায্য় করে থাকে। প্রসঙ্গত, বর্তমান সময়ে যেসব জটিল রোগে সিংহভাগ মানুষই আক্রান্ত হয়ে থাকেন, সেগুলির সঙ্গে মানসিক চাপের সরাসরি যোগ রয়েছে। তাই তো একবার স্ট্রেস লেভেলকে কমিয়ে ফেলতে পারলে জীবনের পরিধিও বাড়তে শুরু করে।

(৩) উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসের মতো রোগ দূরে করে আর তাই এই দুই রোগে যারা ভুগছেন তারা প্রতিদিন প্রাণায়ামের অভ্যাস করুন। দেখবেন উপকার পাবেন। আসলে এই ব্যায়ামটি করার সময় শরীরে বিশেষ কিছু হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যা রক্ত প্রবাহকে স্বাভাবিক করে তোলার পাশাপাশি রক্তে যাতে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি না পায়, সেদিকে খেয়াল রাখে। ফলে দুটি রোগই নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

(৪) প্রাণায়ম করা শুরু করলে আমাদের শরীরে একাধিক প্রয়োজনীয় উপাদানের ভারসাম্য স্বাভাবিক হতে শুরু করে। ফলে জাঙ্ক ফুড খাওার ইচ্ছা যেমন কমে, তেমনি হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটার কারণে শরীরে মেদ জমারও সুযোগই পায় না। ফলে দ্রুত ওজন কমতে শুরু করে।

(৫) এই যোগাসনটি নিয়মিত করলে কনসেনট্রেশনের উন্নতি তো ঘটেই, সেই সঙ্গে শরীরে প্রতিটি অংশে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের পৌঁছে যাওয়ার কারণ একাধিক রোগের প্রকোপও হ্রাস পেতে শুরু করে। বিশেষত হজমের সমস্যা দূর করতে এই ব্যায়ামটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।

এছাড়াও প্রাণায়ম করার সময় আমাদের শরীরের কম-বেশি প্রায় ৮০,০০০ নার্ভের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে শরীরের অন্দরে এনার্জির ভারসাম্য ঠিক হতে শুরু করে। ফলে ছোট থেকে ছোট রোগও আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

সূত্রঃ ইন্টারনেট

উপরে