ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮
আর্থারাইটিস

আর্থারাইটিসের জন্য এলিমিনেশন ডায়েট

আর্থারাইটিসের জন্য এলিমিনেশন ডায়েট

আর্থারাইটিস এক ধরনের রিউম্যাটিক ডিজিজ। এই রোগের ব্যাথা খুবই কষ্টদায়ক এবং তা অনেক সময় অসহনীয় হয়ে ওঠে। এন্ডোক্রাইনাল সমস্যা, দুর্বল ইমিউনিটি বা কোন আঘাত থেকে এই অসুখের সুত্রপাত হতে পারে। অতিরিক্ত ফ্যাটবহুল শরীর বা এসিড প্রোডাক্টিভ খাবার থেকে এই ব্যাথা বাড়তে পারে।  এছাড়া মানসিক অশান্তি বা স্ট্রেস, বয়স, হরমোনাল ইমব্যালেন্স, দুর্বল হজমশক্তি ইত্যাদির কারনে হাড়ের জয়েন্টস এ বিভিন্ন পরিবর্তন আসে  ,ফলে তা শক্ত হয়ে যায় এবং ব্যাথার অনুভুতি দেয় লাগাতার।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের যুক্তি অনুযায়ী - কিছু খাবার আর্থারাইটিসের ব্যাথা কমানোর জন্য আদর্শ। আবার বিভিন্ন মানুষের ক্ষেত্রে বিভিন্ন কিছু খাবার এই ব্যাথা সৃষ্টির কারন। ফলে এ রোগে খাবারের দিকে বিশেষ মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। খেয়াল করুন কোন কোন খাবার আপনার অসুখে খলনায়কের ভুমিকা পালন করছে। এটা জানতে কিছুদিন এলিমিনেশন ডায়েট মেনে চলুন। অর্থাৎ বিশেষ কিছু খাবার কয়েকদিনের জন্য এলিমিনেট করুন বা এড়িয়ে চলুন। যেমন-

 *মাছ, সামুদ্রিক মাছ, চিংড়ি মাছ
 *গরুর মাংস, মাংসের ঝোল, মুরগী বা পাখির মাংস, কলিজা, মগজ
 *মসুর ডাল, মটর, বাদাম, সীমের বিচি, গম বা ভুট্টাজাত খাবার
 *ফুলকপি, পালং শাক, বেগুন, বাঁধাকপি, মাশরুম, ধনে পাতা
 * চা, কফি, কোকো, রিফাইন্ড সুগার

এসব প্রায় ১-২ মাসের জন্য এড়িয়ে চলুন। তারপর ধীরে ধীরে একটা করে খাবার ডায়েটে যোগ করুন। প্রত্যেকটি খাবার যোগ করার মধ্যে অন্তত ২ দিনের ব্যবধান রাখবেন। খেয়াল করুন কোনদিন কোনটা খাচ্ছেন, যদি এর মধ্যে কোন খাবার খাওয়ার পর ব্যাথা বাড়ে ,তাহলে সেই খলনায়ক খাবারটি খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দিন। একসঙ্গে অনেকগুলো খাবার ডায়েটে যোগ করবেন না। তাতে বুঝতে সুবিধা হবে কোনটা আপনার রোগকে ট্রিগার করছে। এভাবে সহজেই কোন খাবার থেকে আপনার জয়েন্ট পেইন আরো বাড়ছে তা চিহ্নিত করে সঠিক ডায়েট মেইন্টেইন করুন । ডায়েটে রেগুলার রাখতে পারেন-

 * পরিমিত পরিমান ভাত, আটা রুটি, সুজি
 *সব ধরনের ফল, শশা, গাজর, লেটুস পাতা, টম্যাটো,
 *মিষ্টিকুমড়া, মিষ্টি আলু, সীম, মুলা, নানা রকম শাক, সবজি
 *ডিম ও ডিমের সাদা অংশ, সরতোলা দুধ, দই, গুড়, মধু
 * গ্রিন টি , লাল চা

হাড় নিজে থেকে নড়াচড়া করতে পারেনা, তার চলাফেরায় সাহায্য করে পেশী। তাই এর সচলতা বজায় রাখা খুবই জরুরী,  বিকেলে বা সকালের নরম রোদে ৫-১০ মিনিট হালকা পায়ে হাটুন, সাথে সাধারন কিছু ফ্রি হ্যান্ড করুন কয়েক মিনিট। এতে মন ও শরীর ঝরঝরে হবে, পেশী হবে টোনড, জয়েন্ট গুলোর শক্তি বাড়বে, পেইন  কমবে তা আপনি নিজেই অনুভব করতে পারবেন।

অযথা স্ট্রেস নেওয়া থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করুন। আর স্ট্রেস দূরে রাখতে মেডিটেশন, ইয়োগা ট্রাই করে দেখুন, রিল্যাক্স থাকবে মন আর পেশী।

রেগুলার ডায়েটে সুষম খাবারের মাধ্যমে বাড়তি ওজন ঝেড়ে ফেলতে চেষ্টা করুন ধীরে ধীরে। কারন, বাড়তি ওজন আর্থারাইটিসের প্রধান শত্রু।

প্রচুর পানি খান। মাঝে মধ্যে ডাব খেতে পারলে বেশ হয়। দই এর লাচ্ছি ,ঘোল ও খেতে পারেন। ভালো লাগবেতো বটেই সাথে পুষ্টি আর হাইড্রেশন ও হবে যা জয়েন্ট এর দেখভাল করায় জরূরি।

আর্থারাইটিসে মেডিকেশন এর সাথে এলিমিনেশন ডায়েট ফলো করুন, ফিট থাকুন।

লেখিকাঃ সাবিহা নূর, ফ্রীল্যান্স কনসালট্যান্ট ডায়েটিশিয়ান

উপরে