ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮
ডায়েট

ডায়েট- আসলে কি?

ডায়েট- আসলে কি?

ডায়েট; শব্দটা শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে  নিরস শশা টমেটোর সালাদ,ট্যালট্যালে ঝোল জাতীয় খাবার,সবজি সেদ্ধর বাটি,তেল মশলা ছাড়া রাধা সাদামাটা ফিকে মাংস বা মাছ, সবজির কাচা রসভর্তি গ্লাস এবং এ ধরনের আরো বিবর্ন সব খাবার যাকে মুলত মোটেও ডায়েট বলা যায়না। ডায়েট মানেই ভাবা হয়-কম খাওয়া,পছন্দের সব খাবার পুরোপুরি বাদ দিয়ে দেওয়া,মনে চাইলেও বিশেষ খাবার গুলো এড়িয়ে চলতেই হবে -এই ধরনের কিছু ভাবনা শতকরা ৯০ জনই মানেন।  অথচ বাস্তব এতটা কঠিন না।

বস্তুত ডায়েট হচ্ছে - আপনার রোজকার খাবার, যাতে বজায় থাকবে সুষম পুষ্টি। খাবারের পরিমাণ ব্যক্তিভেদে আলাদা হলেও তা হবে একদিনের চাহিদা অনুযায়ী যথেষ্ট। খাবারে থাকবে ভিন্নতা ও স্বাদ। কারো ক্ষেত্রে রোজকার খাবার থেকে কমিয়ে ফেলতে হতে পারে কিছু খাবার ,আবার কারো ক্ষেত্রে যোগ করা দরকার হতে পারে কিছু খাবারের। তবে কোন খাবার একেবারে বাদ দিয়ে দেয়ার মত শারীরিক কন্ডিশন যদি কারো হয়েও থাকে তা নিতান্তই বিশেষজ্ঞ দ্বারা নির্ধারিত হতে হবে। সোজা কথায় ডায়েট মানে যদি ভাবি-নিত্যদিনের সব আরামের খাবার বাদ দিয়ে শুধু শাকপাতা খেয়ে, নিজেদের অথেনটিক ফুড কে না বলে, সামান্য খেয়ে,বিদেশী খাবার খেয়ে সুস্থতা অর্জন -তা কিন্তু মোটেও না।  

সুন্দর চেহারার পিছনে সঠিক ডায়েটের বড় ভুমিকা রয়েছে। একটু নিয়ম আর ডায়েটে কিছু রদবদল সুস্থ সুন্দর থাকার চাবিকাঠি।ভেতর থেকে আপনি যদি সুস্থ থাকেন তাহলে বাইরে থেকে এর প্রতিফলন অবশ্যই ঘটবে।এজন্য আমাদের প্রত্যেকের দরকার ব্যালেন্সড ডায়েট।এছাড়াও যদি আপনার ওজন কমানো বা বাড়ানোর দরকার হয়ে থাকে তবে আপনি প্রথমেই জেনে নিন আসলে কতটুকু ক্যালরি রোজ আপনার দরকার।সেইমত পর্যাপ্ত খাবার সঠিক সময়ে রোজ গ্রহন করাই আপনার ডায়েট। ক্যালরির হিসাব জানতে আপনি গুগল করতে পারেন,বয়স-উচ্চতা-বর্ত্মান ওজন ইত্যাদি জানা থাকলে নিজের ক্যালরির হিসাব নিজেই বের করতে পারবেন। অন্যথায় বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নিন।

ডায়েটের জন্য নিজের পছন্দের খাবার কে পুরোপুরি বাদ না দিয়ে মাঝে মধ্যে আরাম করে খেতে হবে,এতে মন কোন কষ্টে থাকবেনা বরং খুশি হয়েই বাকি দিনের নিয়ম মানতে প্রিপেয়ার থাকবে।

সালাদ ডায়েটের  একটি স্বাস্থ্যকর অপশন এটা ঠিক,তবে দিনের পর দিন শুধুমাত্র টুকরো করে কাটা শশা খেয়ে বা গতানুগতিক শশা-গাজর-টম্যাটোর সালাদ খেয়ে ডায়েট করার কোন মানেই নেই। সালাদ এর সুস্বাদু হাজার রকম রেসিপি আছে,তাতে ড্রেসিং হিসেবে কিছু বিদেশী মশলার কথা থাকে বটে কিন্তু সেসবের দেশী সাবস্টিটিউট উপাদান খুজে নেয়া এমন কিছু কঠিন ব্যাপারনা।  ড্রেসিং এর ব্যাপারে একটু আগ্রহী হয়ে দেশী সহজলভ্য কিছু উপাদান নিয়ে তৈরী করে খান তাহলেই বুঝবেন কি দারুন একটা স্যাটিসফ্যাক্টরি কাজ করে শরীর ও মনে। দেশী উপাদান বলতে --দই -মিষ্টি/টক,লেবুর রস,গোল মরিচ, ধনে পাতা, পুদিনা পাতা, তেতুল গোলা,বীট লবন,কাচা মরিচ,রসুন কুঁচি, ধনে গুড়ো,জিরা গুড়ো,কালো জিরা ভাজা,চাট মশলা ইত্যাদি নানা অপশন কিন্তু হাতের কাছেই থাকে। এসব  থেকে উপাদান বেছে নিয়ে নানা রকম স্বাদ্বের সালাদ তৈরি করা যায়। তা হতে পারে ফলের ,সব্জির, ফল সবজি মিক্সড। এর সাথে যোগ যদি হয় -সামান্য কিছু মাংসের টুকরো বা সেদ্ধ ডিমের টুকরো,বাদাম ভাজা,তিল ভাজা ইত্যাদি তাহলে তা নিরস সাদামাটা একটি ডিশ থেকে মনমত ডিশে রুপান্তরিত হতে বাধ্য।

মাছ বা মাংসের রেগুলার প্রিপারেশন এর সাথে সাথে ট্রাই করুন কিছু নতুন রেসিপি। সময় বাঁচবে,ডায়েটে স্বাদের বদল হবে। যেমন - মাংস বা মাছ কে নানারকম সস বা সয়াসস,ভিনেগার,সামান্য তেল,হালকা কিছু মশলা দিয়ে ম্যারিনেট করে ওভেন বা চুলায় গ্রিল,ফ্রাই,শ্যালো ফ্রাই করে খেয়ে দেখুন। স্বাদ ও পুষ্টি গ্যারান্টিড। এর সাথে যুগলবন্দি করে খেতে পারেন ভাত,রুটি,ফ্রাইয়েড রাইস,সবজি,আলু ভাজা ইত্যাদির থেকে যেকোনটা।

গ্রিলড সব্জি,মাছ,মাংস খেতে পারেন তেতুল,টম্যাটো,ধনে পাতা,পুদিনা পাতার চাটনি দিয়ে। তৈরী করা খুবই সহজ।যেমন- ধনেপাতা,রসুন কুচি,মরিচ কুচি,সামান্য লেবুর রস ও বীট লবন একটু পানি দিয়ে ব্লেন্ড করে নিলেই চাটনি তৈরী ।অসাধারন স্বাদ আর ভিটামিন মিনারেলে ভরপুর এসব চাটনি আপনার ডায়েট কে ব্যালেন্সড করতে পারে নিমিষেই।

সবজির পুর ভরে স্টিমড মোমো(পুলি পিঠার ঝাল রেসিপি), স্টাফড রোল, চাইনিজ ভেজ, ভেজ স্যুপ ইত্যাদি ট্রাই করুন স্বাদ বদলাতে,ডায়েটের একঘেয়েমি কাটাতে। বাড়ির সকলে একই মেনুতে খেতে পারেন,আলাদা একজনের জন্য কোন প্রিপারেশন দরকার হয়না তাতে বরং সকলে দিলখুশ হয়েই খাবেন নতুন স্বাদে চিরচেনা সবজিকে।

রান্নায় স্বাস্থ্যকর তেল পরিমান মত ব্যবহার করাই যায়, তেলবিহীন স্বাদহীন রান্না মানেই স্বাস্থকর তা কিন্তু মোটেও না।

প্রতিবেলার ডায়েটে পরিবারের সকলের ব্যালেন্সড নিউট্রিশন বজায় রাখতে মনযোগী হোন, ফ্যাটবিহীন দুধ জাতীয় খাবার মেন্যুতে রাখুন।

বয়স এর সাথে সাথে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জটিলতা বাড়িয়ে তারপর ব্যালেন্সড ডায়েটে না ঝুকে আগেই সতর্ক হোন,ভালো খান -বুঝে খান, সুস্থ থাকুন।

লেখিকাঃ সাবিহা নূর, ফ্রীল্যান্স কনসালট্যান্ট ডায়েটিশিয়ান

উপরে