ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৯
হঠাৎ ফ্রিজ নষ্ট হয়ে গেলে

হঠাৎ ফ্রিজ নষ্ট হয়ে গেলে জিনিসপত্র ভালো রাখার টিপস

20Fours Desk | আপডেট : ২২ মার্চ, ২০১৯ ০৯:১৮
হঠাৎ ফ্রিজ নষ্ট হয়ে গেলে জিনিসপত্র ভালো রাখার টিপস

আধুনিক জীবনে কাজকর্ম ও রান্নাবান্না সহজে করতে  আমরা ফ্রিজ ব্যবহার করে থাকে। দেখা যায় সময়ের অভাবে প্রতিদিন বাজারে যাওয়া সম্ভব হয় না। তাই সপ্তাহের বাজার বা মাসের বাজার অনেকেই একসাথে করে ফ্রিজে রেখে দেন। এমনকি যারা চাকরি করেন তারা অনেকেই ২/৩ দিনের রান্না একসাথে করে রাখেন। কিন্তু হঠাৎ ফ্রিজ নষ্ট হয়ে গেলে এসব জিনিস কি তাহলে নষ্ট হয়ে যাবে। চিন্তার কিছু নেই। তাই কিছু টিপস জানা থাকলে আপনার ফ্রিজ নষ্ট হলেও জিনিসপত্র ঠিক থাকবে। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক টিপসগুলোঃ

১। কাজ এগিয়ে রাখার জন্য অনেকেই  আগে থেকে ফ্রিজে আদা-রসুন বাটে রাখে। তবে হঠাৎ যদি ফ্রিজ নষ্ট হয়ে যায় তাহলে কি করবেন আদা রসুন কি ফেলে দিবেন নাকি?
 চিন্তা করবেন না, ফ্রিজে মাছ-মাংস থাকলে আদা-রসুন বাটা এখন আপনার কাজে লেগেই যাবে। ফ্রিজ থেকে বের করে সরাসরি গরমে বা চুলার ধারে রাখবেন না, যতটা সম্ভব ঠাণ্ডা স্থানে রাখুন। একটু বেশি সময় ভালো থাকবে।

২। ফ্রিজ নষ্ট হয়ে গেলে ফ্রিজে থাকা মাছ খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তাই মাছকে খুব ভালো করে লবণ দিয়ে ধুয়ে নিন। এবং লবণ-হলুদ ও সামান্য রসুন বাটা মাছে মেখে নিন। সাথে যোগ করুন সামান্য সাদা সিরকা। ১০ মিনিট পর গরম তেলে একদম মুচমুচে করে মাছ ভেজে নিন। এরপর মাছ ভালো মতো ঠাণ্ডা করে এয়ার টাইট বক্সে ভরে রেখে দিন। শীতের দিন হলে এই ভাজা মাছ ২/৩ দিন পর্যন্ত ভালো থাকবে। গরমের দিন হলে এক দিন পর শুকনো প্যানে মাছ দিয়ে ভালো করে গরম করে নিন। এই ভাজা মাছ গরম ভাতের সাথে খেতে পারবেন, ভুনা বা রান্না করেও খেতে পারবেন।

৩। অনেকেই আছেন একসাথে মাসের বাজার করে থাকেন। এর ফলে অনেকেই একসাথে অনেক মাংস ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রাখে। কিন্তু যদি ফ্রিজ হঠাৎ নষ্ট হয়ে তাহলে কি করবেন। মাংস রান্না বেশ কয়েকদিন রাখা যায়। আর জ্বাল দিতে না চান, তাহলে  সবচেয়ে সহজ উপায়টি হচ্ছে গরু/খাসির মাংসের শুঁটকি করে রাখা। মাংসকে সমস্ত মশলা অল্প করে দিয়ে ভালো করে মেখে নিন। বাড়তি যোগ করুন সরিষার তেল ও সামান্য সিরকা। মাংসের শুঁটকি তাজা মাংস দিয়ে করতে হয়। যেহেতু ফ্রিজে রাখা মাংস, তাই সিরকা ও সরিষার তেল মাংসকে ভালো রাখতে সহায়তা করবে। আর মাংসের শুঁটকি ১ বছর পর্যন্ত ভালো থাকে।

৪। যদি রান্না করা মুরগী, কবুতর বা হাঁসের মাংস থাকে তাহলে ভুনা করে রাখতে না চাইলে আদা-রসুন, হলুদ, লবণ ও সিরকা মেখে ডুবো তেলে ভেজে নিন। ঠাণ্ডা করে এয়ার টাইট বক্সে রাখুন। রোজ একবার ভাজা দিয়ে ৩/৪ দিন রাখতে পারবেন। এই ভাজা মাংস রান্না করতে পারবেন, পাটায় ছেঁচে নিয়ে দোপেঁয়াজাও করতে পারবেন।

৫।  দুধ জ্বাল দিয়ে দিয়েই রাখা যায় সহজে। তবে ফ্রিজে রাখা দুধ হলে জ্বাল দেয়ার সময় এক চিমটি লবণ যোগ করুন, সহজে নষ্ট হবে না।

৬।  সবজি ও ফল ফ্রিজ থেকে বের করে ভালো করে কাপড় দিয়ে মুছে বাতাসে মেলে রাখুন। দেখবেন সহজে নষ্ট হবেনা।

৭। কমবেশি সবারই ফ্রিজে সসেজ, নাগেটস থাকে। তাই এইসব মাংসে তৈরি ফ্রোজেন খাবার ডিপ ফ্রাই করে ফেলুন। তবে মাঝারি আঁচে অনেক সময় নিয়ে কড়া করে ভাজবেন, ফ্ল্যাশ ফ্রাই করবেন না। ২/৩ দিন ভালো থাকবে।

৮।  মাখন, চিজ, পনির, মারজারিন, চকলেট ইত্যাদি ফ্রিজ ছাড়া চট করে নষ্ট হয়ে যায়। এগুলোকে পলিথিনে ভরে ভালো করে মুখ আটকে নিন। জিপ লক ব্যাগেও ভরতে পারেন। তারপর গামলা বা হাড়ি ভরে পানি নিয়ে সেটার মাঝে সম্পূর্ণ ডুবিয়ে ঠাণ্ডা স্থানে রাখুন। বেশ কয়েকদিন ভালো থাকবে। ২ দিন পর পর পানি বদলে দিন।

৯। ডিমও পানিতে ডুবিয়ে রাখলে অনেকদিন ভালো থাকবে।

১০। কেক বা মিষ্টি জাতীয় বেকারি আইটেম ভালো রাখতে চান? তাহলে একটি এয়ার টাইট প্লাস্টিক বক্স খুব ভালো করে ভিনেগার দিয়ে মুছে নিন। এরপর এটার মাঝে কেক, পাউরুটি সহ যে কোন বেকারি আইটেম রেখে দিন নষ্ট হবে না।

উপরে