ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৮
ফুসফুসের সুস্থ্যতা

ফুসফুসের সুস্থ্যতায় খাওয়া উচিত যেসব খাবার।

20fours Desk | আপডেট : ৬ নভেম্বর, ২০১৮ ২১:৫৩
ফুসফুসের সুস্থ্যতায় খাওয়া উচিত যেসব খাবার।

আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর মধ্যে একটি হলো ফুসফুস। এর মাধ্যমেই আমরা শ্বাস-প্রস্বাস ক্রিয়া চালিয়ে থাকি। এজন্য গুরুত্বপূর্ণ এই অংগটির প্রয়োজন সঠিক যত্ন। না হলে এটি তার কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে। ফুসফুসের বিভিন্ন রোগ হয় যেমন-ক্যান্সার, নিউমোনিয়া, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ ও অ্যাজমা আমাদের শরীরের অক্সিজেন শোষণে সীমাবদ্ধতা তৈরি করে। আর এতে যে আমাদের শরীরের কত ক্ষতি হবে তা আমরা চিন্তাই করতে পারি না। তাই আমাদের উচিত এমন সব কাজ করা যা করলে আমাদের ফুসুফস ভালো থাকবে এবং আমরাও সুস্থ্য থাকব। আর এজন্য প্রয়োজন এমন কিছু খাবার যা খেলে আমাদের ফুসফুস থাকবে একদম সুস্থ্য। যেমন- মিষ্টি কুমড়া, পেঁপে, শাক, বাঁধাকপি, বেল পেপার, পেয়ারা, কালো বিন, ডাল, স্যালমন ও বাদামি আলু ফুসফুসের জন্য ভালো খাবার। আসুন জেনে নিই ফুসফুসকে সুস্থ্য রাখতে আমাদের কি ধরনের খাবার গ্রহন করা উচিত তা সম্পর্কে।

যেসব খাবার খেলে আমাদের ফুসফস সুস্থ্য থাকবেঃ

১। ক্যারোটিন:

ফুসফুসের সুস্থ্যতায় ক্যারোটিন সমৃদ্ধ খাবার সবচেয়ে বেশি উপকারি। বিশেষ করে ক্যারোটিনের অর্ন্তভুক্ত বিটা-ক্রিপ্টোজানথিন এবং লিউটেইন ও জিজানথিন আমাদের ফুসফুসকে সুস্থ্য রাখে। একই সাথে এইসব উপাদান আমাদের ফুসফসের ক্যান্সার প্রতিরোধেও সবচেয়ে বেশি কাজ করে থাকে। এর এই বিটা-ক্রিপ্টোজানথিন সবচেয়ে বেশি রয়েছে মিষ্টি কুমড়া এবং পেঁপেতে। আর শরীরে লিউটেইন ও জিজানথিনের জোগান দিতে পারে সবুজ শাকসবজি এবং হলুদ ফলে। তাই আমাদের ফুসফুসকে সুস্থ্য রাখতে উচিত বেশি করে সবুজ শাকসবজি এবং হলুদ ফল খাওয়া।

২। অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি:

আমাদের ফুসফুসের জন্য অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি অনেক বেশি উপকারি। বিশেষ করে এই উপাদান গুলো আমাদের ফুসফুসের যেকোন ধরনের ইনফেকশন রোধে সবচেয়ে বেশি ভুমিকা পালন করে। অনেকসময় বেশি ঠান্ডা লাগার ফলে আমাদের নিউমোনিয়া হয়ে থাকে আর এর ফলে আমাদের ফুসফুস সবথেকে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। আর এতে সবচেয়ে বেশি উপকার করে থাকে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। বেশ কিছু গবেষণায় পাওয়া গেছে নিউমোনিয়ার প্রতিষেধকই হলো ভিটামিন সি। তাই ফুসফুসের যেকোন ইনফেকশ এবং সুস্ব্যতায় আমাদের উচিত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহন করা। আর এসব পাওয়া যায় লেবু, কমলা, পেয়ারা, পাকা বেল, কামরাঙ্গা, মাল্টা, শসা, সবুজ শাক এই ধরনের খাবার গুলোতে।

৩। ফলেট:

ফলেট আমাদের ফুসফুসের জন্য অত্যান্ত প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। এটি আমাদেরকে ফুসফুসের বিভিন্ন রোগ থেকে দূরে রেখে আমাদের ফুসফুসের সুস্থ্যতা নিশ্চিত করে। ফলেট আমাদের শরীরে প্রবেশ করলে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিস, এমফিসেমা, ব্রঙ্কাইটিজ ও অ্যাজমার মতো রোগ থেকে আমাদের ফুসফুসকে সুরক্ষিত রাখে। বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাস বাধাগ্রস্থ হওয়ার অন্যতম একটি কারণ হলো ফলেট জাতীয় খাবার কম গ্রহন করা। তাই আমাদের ফুসফুসের সুস্থ্যতায় উচিত দৈনিক খাদ্যতালিকায় ফলেট জাতীয় খাবার রাখা। বিভিন্ন প্রকার ডাল, শিমের বীজ, বরবটি, কঁচু শাক, পালং শাক, মিষ্টি কুমড়া, কলার মোচা, কাঁচা কলায় প্রচুর পরিমাণে ফলেট রয়েছে।

৪। ভিটামিন বি৬:

আমাদের শরীরের জন্য ভিটামিন বি-এর উপকারিতার কথা আমরা সবাই জানি। এটি আমাদের শরীর গঠনের পাশাপাশি আমাদের ফুসফুসের জন্য অত্যান্ত প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। বিশেষহ করে ভিটামিন বি-৬। এটি আমাদের ফুসফুওকে সুস্থ্য রাখার পাশাপাশি ফুসফুসের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের রক্তে ভিটামিন বি-৬ এর মাত্রা বেশি, তাদের ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। এই ভিটামিন বি-৬ আমাদের ফুসফুসের কোষসমুহকে ড্যামেজের হাত থেকে রক্ষা করে এবং নতুন কোষ সৃষ্টিতে সাহায্য করে। তাজা ফল, সবজি, শস্যদানা, মাছ, ডিম ও পনিরে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন বি-৬ পাওয়া যায়।

৫। ফাইবারঃ

আমাদের ফুসফুসের জন্য ফাইবার একটি বিশেষ উপকারি উপাদান। ফাইবার আমাদের ফুসফুসের কোষের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। বিশেষ করে নানা রকম ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এবং জীবাণু দ্বারা আমাদের ফুসফুস যেন আক্রান্ত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখে ফাইবার। এছাড়াও শরীরের অন্যান্য অঙ্গে যদি কোন রোগ হয়ে থাকে তা যেন ফুউওফুসে ছড়িয়ে না পরে এজন্য ফাইবার ফুসফুসের চারদিকে একটি সুরক্ষা আবারণ তৈরি করে রাখে। আর এভাবেই আমাদের ফুসফুসকে রক্ষা করে থাকে ফাইবার।

উপরে